ইরানের দিকে আমেরিকার যুদ্ধের প্রস্তুতি!
ইরানের দিকে ‘বৃহৎ নৌবহর’ এবং ‘বড় সেনাদল’ পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাতেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়ে গেল জল্পনা— এ বার কি সত্যিই তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকা? যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এখনই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই পদক্ষেপ মূলত নজরদারি বাড়ানোর জন্যই।
দাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর বৈঠক সেরে আমেরিকায় ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের একটি বড় নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে। আমরা দেখব পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়। আমাদের বড় সৈন্যদলও ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা ওদের উপর খুব কড়া নজর রাখব।” তাঁর এই মন্তব্যই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে ট্রাম্প একাধিক বার স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে তাঁর লক্ষ্য যুদ্ধ নয়। বরং পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করাই আমেরিকার উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত হয়তো অস্ত্র ধরার প্রয়োজনই পড়বে না।
এই উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে ইরানের অন্দরেই চলতে থাকা তীব্র অস্থিরতা। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে সে দেশে শুরু হয়েছে লাগাতার বিক্ষোভ। প্রথমে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামলেও, ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন রূপ নেয় ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পদত্যাগের দাবিও তোলে।
আমেরিকা প্রকাশ্যে এই গণবিক্ষোভকে সমর্থন জানায়। অন্য দিকে, ইরান সরকার আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে— এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন ফেলে।
এই প্রসঙ্গেই ট্রাম্প আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার চাপেই ইরান সরকার কয়েকশো বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “বৃহস্পতিবার আমি ৮৩৭টি ফাঁসি আটকেছি। ওদের সবাইকে ঝোলানোর পরিকল্পনা ছিল।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, যাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছিল, তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন অল্পবয়সি।
ট্রাম্পের সংযোজন, “আমি ইরানকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম— যদি এই মানুষগুলিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তা হলে তার ভয়ংকর পরিণতি হবে। শেষ পর্যন্ত ওরা শুধু ফাঁসি স্থগিতই করেনি, পুরোপুরি বাতিল করেছে। এটা একটা ইতিবাচক বার্তা।”
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের বক্তব্যে এক দিকে যেমন কঠোরতার ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনই রয়েছে সংঘাত এড়ানোর বার্তাও। কিন্তু ইরানের দিকে নৌবহর ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা যে পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন প্রশ্ন একটাই— এই শক্তি প্রদর্শন কি শুধুই চাপ তৈরির কৌশল, না কি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও সামরিক পরিকল্পনা? আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা