খুব ভুল করছে ইরান!
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি-আলোচনার প্রথম পর্ব ইতিবাচক বলেই দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতির মাঝেই আবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের প্রশ্নে তেহরানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের অভিযোগ, আলোচনার টেবিলে ইরান এক ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে। তাঁর কথায়, “ওরা ভুল করছে, খুবই ভুল করছে। ওরাও জানে যে ভুল করছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান আগে থেকেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও জানিয়েছিলেন যে, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের জন্য আইএইএ-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে। এমনকি শান্তি-আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবেও বিষয়টি বিবেচিত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেই দাবি খারিজ করে দেয় এবং স্পষ্ট জানায়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই অবস্থানেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি ইরান আইএইএ-র পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি না দেয়, তা হলে চলমান শান্তি-আলোচনাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হলে আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের আশ্বাসের ভিত্তিতেই হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেহরান যদি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তা হলে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী পুনরায় কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গত কয়েক মাসে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামরিক সংঘর্ষ, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এপ্রিল মাসে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর জুনে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করে।
এর পর সুইৎজ়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দফার শান্তি-বৈঠক। উভয় পক্ষই বৈঠককে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও পরমাণু পরিদর্শন নিয়ে নতুন বিতর্ক পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচির স্বচ্ছতা ইস্যুটি এখন দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির একটি। আমেরিকা চাইছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি সরাসরি ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি পর্যবেক্ষণ করুক। অন্যদিকে, ইরান বারবার নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে বাইরের হস্তক্ষেপে আপত্তি জানাচ্ছে।
ফলে দ্বিতীয় দফার শান্তি-আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই আবার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন আর কোনও অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি মেনে নিতে রাজি নয়। এখন দেখার, ইরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকে নাকি আলোচনার স্বার্থে নতুন কোনও সমঝোতার পথে হাঁটে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?