আলোচনার ইঙ্গিত ইরানের!
পশ্চিম এশিয়ায় চলতি সংঘাতের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার সম্ভাবনার কথা জানাল ইরান। তবে সেই আলোচনার আগে কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পাঠানো হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় সেই বার্তা আমেরিকার কাছে পৌঁছেছে বলে দাবি তাঁর। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
রেজাই তাঁর এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি কূটনৈতিক পথে এগোতে চায়, তা হলে ইরানের অধিকার এবং শর্ত মেনে নিতে হবে। যদিও সাতটি শর্তের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। আল জাজ়িরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই যে তিনটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, ইরানের হিমায়িত অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।
একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার পাশাপাশি কঠোর বার্তাও দিয়েছে তেহরান। রেজাই বলেছেন, আমেরিকা শর্তগুলি না মানলে ইরান ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার বিষয়টিও ইরান বিবেচনায় রাখছে এবং সেই অনুযায়ী সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এসব দাবি অবশ্য ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের বক্তব্য; স্বাধীন ভাবে প্রতিটি সামরিক দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যেই সংঘাত কমানোর জন্য বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। কাতার এবং পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে। চিনও ইরানকে আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রভাব শুধু সংঘাতরত দেশগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উপসাগরীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সাত শর্ত সামনে আসাকে আলোচনার সম্ভাবনার একটি নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন ওই শর্তগুলি কী ভাবে গ্রহণ করবে, আদৌ আলোচনায় বসবে কি না এবং যুদ্ধবিরতির কোনও কাঠামো তৈরি হবে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত কূটনৈতিক বার্তা আদানপ্রদান এবং সামরিক প্রস্তুতি, দু’টি পথই পাশাপাশি চলছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।