ইরান যুদ্ধের পর বদলাচ্ছে সমীকরণ?
ভারতের তৈরি ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ার অস্ত্রবাজার মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। সেই জায়গায় ভারতের মতো নতুন অংশীদারের দিকে ঝুঁকছে আমিরশাহি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রহ্মস ও আকাশতির কেনার বিষয়ে নয়াদিল্লি এবং আবু ধাবির মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিই এই আগ্রহের অন্যতম কারণ।
জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের ভারত সফরের সময় থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আবু ধাবি সফরের পর সেই প্রক্রিয়া আরও গতি পায়।
দীর্ঘদিন ধরে আমিরশাহি আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিভিন্ন কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, বিশেষ করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। এর ফলে বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করেছে দেশটি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের আকাশতির ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হল বিভিন্ন ধরনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে একটি সমন্বিত কমান্ড নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ক্ষমতা। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান— সব ধরনের হুমকি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, সেখানে এই প্রযুক্তি বিশেষ কার্যকর হতে পারে।
অন্য দিকে ব্রহ্মস বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। স্থল, সমুদ্র ও আকাশ— তিন মাধ্যম থেকেই এটি নিক্ষেপ করা সম্ভব। এর গতি এবং নির্ভুলতা আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে ইতিমধ্যেই বিশেষ নজর কেড়েছে। ফিলিপিন্সের কাছে ব্রহ্মস রফতানির পর ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গেও ভারতের আলোচনা এগিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হতে পারে আমিরশাহির নাম।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, পশ্চিম এশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজারেও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এতদিন যে অঞ্চলে মার্কিন অস্ত্রের প্রভাব ছিল প্রায় একচেটিয়া, সেখানে ভারতীয় প্রযুক্তির প্রবেশ নতুন প্রতিযোগিতার দরজা খুলে দিতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা করেনি। ফলে আলোচনার ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলের। ব্রহ্মস ও আকাশতির যদি সত্যিই আমিরশাহির অস্ত্রভাণ্ডারে জায়গা করে নেয়, তবে তা ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?