আকাশসীমা বন্ধ ইরানের!
হঠাৎ করেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিল ইরান। বুধবার গভীর রাতে প্রথমে প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য সব ধরনের উড়ান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়। যদিও যেসব আন্তর্জাতিক বিমানের বিশেষ অনুমতি রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে।
কেন এমন আচমকা সিদ্ধান্ত—এই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর দেয়নি তেহরান। তবে গত দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ওয়াশিংটন ফের সামরিক অভিযানের পথে হাঁটতে পারে—এই আশঙ্কা নতুন করে ঘনিয়েছে। সেই আবহেই আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে ভারতের বিমান পরিষেবাতেও। এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করে যেসব আন্তর্জাতিক উড়ান চলাচল করত, সেগুলিকে এখন বিকল্প পথে চালানো হচ্ছে। ফলে কিছু বিমানে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হতে পারে। যেসব উড়ানকে আপাতত বিকল্প পথে চালানো সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলি সাময়িক ভাবে বাতিলও করা হচ্ছে। একই রকম সতর্কবার্তা দিয়েছে ইন্ডিগো। তারাও জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রভাব পড়তে পারে।
আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত এমন সময় এল, যখন কাতারে মার্কিন সেনাঘাঁটি ঘিরে নতুন করে তৎপরতার খবর ছড়িয়েছে। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র। বুধবার সন্ধ্যায় খবর আসে, ওই ঘাঁটি থেকে বেশ কিছু মার্কিন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
কারণ, অতীতের স্মৃতি এখনও টাটকা। গত বছরের জুন মাসে ইরানে মার্কিন হামলার ঠিক আগেও কাতারের এই ঘাঁটি থেকে অসামরিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তারপরই ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালায় আমেরিকা। তাই এ বারও একই ধরনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।
এর পাশাপাশি, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিকেও সতর্ক থাকতে। সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়া যেন ফের এক অশান্ত অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
ইরান ও কাতারের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র এখনও সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। কিন্তু সময়ের মিল, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সামরিক নড়াচড়া—সব কিছু মিলিয়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ করা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা ভবিষ্যতের বড় কোনও ঘটনার পূর্বাভাসও হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
এখন নজর গোটা বিশ্বের। ইরান কি কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, নাকি ফের কোনও বড় সামরিক সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে পশ্চিম এশিয়া—তার উত্তর মিলবে হয়তো খুব শিগগিরই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা