গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুদ্ধের মেঘ? আমেরিকা বনাম নেটো—শেষ পর্যন্ত কার শক্তি বেশি?

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুদ্ধের মেঘ? বরফে ঢাকা ‘সবুজ দ্বীপ’ গ্রিনল্যান্ড এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক আগ্রাসী মন্তব্যের পরে প্রশ্ন উঠছে—গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যদি…

January 20, 2026
1 min read

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুদ্ধের মেঘ?

বরফে ঢাকা ‘সবুজ দ্বীপ’ গ্রিনল্যান্ড এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক আগ্রাসী মন্তব্যের পরে প্রশ্ন উঠছে—গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যদি সত্যিই সংঘাত বাধে, তবে জিতবে কে? একা আমেরিকা, না কি নেটোর সম্মিলিত শক্তি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে লিথিয়াম, নিওবিয়াম, হাফনিয়াম, জ়িরকোনিয়ামের মতো দুষ্প্রাপ্য ধাতু। এই সম্পদের লোভেই আমেরিকার নজর দ্বীপটির উপর—এমনটাই ধারণা। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের ‘অভিভাবক’ ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসন কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে ইতিমধ্যেই ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে।

শুধু ডেনমার্ক নয়—ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, স্পেন, ইতালি, পোল্যান্ড-সহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কই। এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট বার্তা।

আমেরিকার শক্তি কতটা?

‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই। আমেরিকার হাতে রয়েছে প্রায় ২১ লক্ষের বেশি সক্রিয় সেনা, বিশ্বের নানা প্রান্তে ১০০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি এবং ৮৯ হাজার কোটি ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট।

বিমানশক্তির দিক থেকেও আমেরিকা এগিয়ে—১৩ হাজারের বেশি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, যার মধ্যে প্রায় ১,৮০০টি ফাইটার ও বোমারু জেট। পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রেও তারা বিশ্বের শীর্ষে—৫,১৭৭টি ওয়ারহেড মজুত রয়েছে পেন্টাগনের হাতে।

নেটোর পাল্টা শক্তি

নেটোতে মোট ৩২টি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হাতেও পারমাণবিক অস্ত্র আছে—যদিও সংখ্যায় আমেরিকার তুলনায় অনেক কম। ব্রিটেনের কাছে প্রায় ২২৫টি ওয়ারহেড, ফ্রান্সের হাতে আনুমানিক ২৯০টি।

বিমানশক্তিতে আমেরিকা এগিয়ে থাকলেও নেটোর সম্মিলিত বিমানবহর, ট্যাঙ্ক, নৌবহর ও আধুনিক প্রযুক্তির শক্তি একসঙ্গে ধরলে বিষয়টি আর একপাক্ষিক থাকে না। ফ্রান্স, পোল্যান্ড, কানাডা, তুরস্ক—সব মিলিয়ে নেটোর সামরিক উপস্থিতি যথেষ্ট শক্তিশালী।

তাহলে যুদ্ধ হলে কী হবে?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একা ডেনমার্কের পক্ষে আমেরিকাকে ঠেকানো কঠিন। কিন্তু নেটোর সক্রিয় সমর্থন পেলে ছবিটা বদলে যেতে পারে। কারণ নেটোর চুক্তি অনুযায়ী, একটি সদস্য দেশের উপর আক্রমণ মানেই তা গোটা জোটের উপর আক্রমণ।

তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আমেরিকা নিজেই নেটোর সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য। সেই দেশ যদি জোটের বিরুদ্ধেই দাঁড়ায়, তবে নেটোর ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

কেন গ্রিনল্যান্ড এত গুরুত্বপূর্ণ?

গ্রিনল্যান্ড হাতে থাকলে উত্তর মেরু অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব কমানো সম্ভব—এটাই ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়া যদি এই দ্বীপে প্রভাব বিস্তার করে, তবে আমেরিকার নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। সেই আশঙ্কা থেকেই আগাম ‘কৌশলগত চাল’ দিতে চাইছেন ট্রাম্প—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

সব মিলিয়ে, গ্রিনল্যান্ড এখন শুধু একটি দ্বীপ নয়—এটি হয়ে উঠেছে পরবর্তী বিশ্ব-শক্তির দ্বন্দ্বের প্রতীক। যুদ্ধ হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে একথা নিশ্চিত, এই বরফের দ্বীপ ঘিরেই আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ঝড় উঠতে চলেছে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *