গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রাসী সুরে ওয়াশিংটন!
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড— আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য ‘বিকল্প পথ’ নিয়ে ভাবছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তিই যে তাঁর প্রথম পছন্দ— সেটাও আড়াল করেননি তিনি। এই বক্তব্যের পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল ডেনমার্কের তরফে।
কোপেনহাগেন স্পষ্ট করে দিল— গ্রিনল্যান্ডে কোনও আগ্রাসনের চেষ্টা হলে ডেনমার্কের সেনা আগে গুলি চালাবে, প্রশ্ন করবে পরে। এই হুঁশিয়ারির ভিত্তি কোনও আবেগী মন্তব্য নয়, বরং ১৯৫২ সালের ডেনমার্কের সেনা-আইন। ওই আইনে বলা আছে, দখলকারী হামলার চেষ্টা করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা না করে সেনা পাল্টা গুলি চালাতে পারবে। হামলাকারীর উদ্দেশ্য বা অনুমোদন পরে খতিয়ে দেখা হবে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে— ৭৪ বছর পুরনো এই বিধি আজও বলবৎ।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি— আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। মেরু অঞ্চলে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই দাবি ওয়াশিংটনের। রবিবার ট্রাম্প ফের বলেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের দরকার— এটা এখন কৌশলগত ব্যাপার।” এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন কড়া সুরে জানান, হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন নেটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও— নেটোর কোনও সদস্য যদি অন্য সদস্যকে আক্রমণ করে, তা হলে জোটের ভিত নড়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, গ্রিনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। অভ্যন্তরীণ প্রশাসন স্বায়ত্তশাসিত হলেও, বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্ক সরকার। ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে একাধিক বার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন— সাম্প্রতিক মন্তব্যে তা আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে।
এই টানাপড়েনে ডেনমার্ক একা নয়। ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্সের মতো নেটোর অন্য সদস্যরাও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— কৌশলগত আগ্রহ আর সামরিক হুঁশিয়ারির এই সংঘাতে কি সত্যিই উত্তাপ বাড়বে আর্কটিকে?
একটি বিষয় অবশ্য পরিষ্কার— ডেনমার্ক ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনও দর কষাকষির জমি নয়। আগ্রাসন এলে প্রতিক্রিয়াও হবে তৎক্ষণাৎ।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি