দু’দশক পরে ইরাক ছাড়ছে আমেরিকা, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে সেনা প্রত্যাহার

দু’দশক পরে ইরাক ছাড়ছে আমেরিকা! দু’দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন ঘাঁটিগুলি থেকেও…

September 29, 2026
1 min read

দু’দশক পরে ইরাক ছাড়ছে আমেরিকা!

দু’দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন ঘাঁটিগুলি থেকেও বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এ বার তারও অবসান হতে চলেছে।

এই প্রত্যাহার অবশ্য হঠাৎ নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাক সরকারের আলোচনায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন ধাপে ধাপে শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় অনুযায়ী, ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর শেষ অংশও এ বার সরে যাচ্ছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

ঘটনাটির সময়কালই নজর কেড়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক সংঘাতের আবহে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সরে যাচ্ছে। ফলে এই পদক্ষেপের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েক জন বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরাকে ইরানপন্থী বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। তাদের কয়েকটি গোষ্ঠী অতীতে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে। ২০২৪ সালে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির হামলা বন্ধে তেহরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন প্রধান ইসমাইল কানি বাগদাদে বৈঠক করেছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছিল। সেই সময় তাঁর হস্তক্ষেপের পর মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা সাময়িক ভাবে কমে যায়।

তবে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্বেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরাকি নিরাপত্তা মহলের একটি অংশের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনী এবং জোটের উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ হলে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হতে পারে। সেই সুযোগে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলি আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের নিষ্ক্রিয় সেলগুলি ফের সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও নিয়ে সতর্কতা রয়েছে।

অন্য দিকে, ইরানের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলি মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকে নিজেদের জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে। ইরাকের মাটিতে আমেরিকার দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসানকে কেউ কেউ দেশের সার্বভৌমত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবে দেখছেন। তবে মার্কিন বাহিনী চলে গেলেও ওয়াশিংটন-বাগদাদ সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না; নিরাপত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।

২০০৩ সালের মার্চে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল আমেরিকা। পরবর্তী সময়ে আল কায়দা এবং ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও মার্কিন বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দুই দশকের বেশি সময়ের এই দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারকে আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনও মার্কিন সামরিক অভিযানের সরাসরি প্রস্তুতি বলা যাচ্ছে না। বরং ২০২৪ সালে নির্ধারিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাহার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হিসাবেই ঘটনাটিকে দেখানো হচ্ছে। তবে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব আগামী দিনে নজরে থাকবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *