হামলা থামাতে রাজি ইরান-আমেরিকা!
টানা কয়েক দিনের সংঘর্ষের পর অবশেষে উত্তেজনা প্রশমনের পথে হাঁটতে সম্মত হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার আবহে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলেও, আপাতত সংঘর্ষ বন্ধ রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে দাবি এক মার্কিন আধিকারিকের। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসবেন।
মার্কিন সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আপাতত বাধাহীন থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ-পরিবহণ বজায় রাখা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে কারিগরি স্তরে আলোচনা চলছে।
গত সপ্তাহে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনা সামনে আসে। আমেরিকার অভিযোগ, ওই হামলার নেপথ্যে ছিল ইরান। যদিও তেহরান সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করে, হামলার জন্য দায়ী মার্কিন বাহিনী।
এর পরেই সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার নেয়। আমেরিকা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরিনেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কারও হামলার মুখে পড়ে।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে আমেরিকা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, সেই পরিস্থিতিতে ইরানের অস্তিত্বও বিপদের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।
তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ওয়াশিংটনের দাবি, আপাতত দুই দেশই সংঘর্ষ থেকে সরে আসতে সম্মত হয়েছে। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে এবং আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না।
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে কাতার। পাকিস্তানের সহযোগিতায় কাতারের উদ্যোগেই মঙ্গলবার ফের দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করার রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এদিকে ইরানের অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননে ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা। কয়েক দিন আগেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজ়রায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিতে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজ়বুল্লাকে সরিয়ে দেশের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে হিজ়বুল্লার ঘাঁটিতে ইজ়রায়েলের হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এখনও একাধিক জটিলতা রয়ে গেছে। মঙ্গলবার কাতারের বৈঠকে এই বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?