ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যসমঝোতা!
ভারত–আমেরিকার মধ্যে ঘোষিত নতুন বাণিজ্যসমঝোতা নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর চর্চা তুঙ্গে ছিল দিল্লির রাজনৈতিক মহলে। শুল্ক কমার খবরে যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তেমনই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। এই আবহেই আমেরিকার তরফে আশ্বাস মিলল—ভারতীয় কৃষিপণ্যের স্বার্থ রক্ষায় থাকছে ‘সুরক্ষাবলয়’।
মঙ্গলবার রাতে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সঙ্গে ঘোষিত বাণিজ্যসমঝোতার নথিপত্র চূড়ান্ত করার কাজে নেমে পড়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা চুক্তির সব খুঁটিনাটি জানি। ভারত তাদের কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে কিছু সুরক্ষাবলয় বজায় রাখছে।” এই মন্তব্যে খানিকটা স্বস্তি মিলেছে, কারণ দুগ্ধ ও কৃষিখাতে বিদেশি প্রবেশ নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিরোধী দল এবং কৃষক সংগঠনগুলির একাংশ।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, এই সমঝোতা অবিলম্বে কার্যকর হবে। কিন্তু সেটি আদৌ পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্যসমঝোতা (এফটিএ), না কি শুধুই শুল্কছাড় সংক্রান্ত একটি চুক্তি—তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া এখনও প্রস্তুত হয়নি। অন্য দিকে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন, ভারত–আমেরিকা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হচ্ছে।
এই চুক্তি ঘিরে আর একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত নাকি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং বদলে আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলা থেকে বেশি তেল কিনবে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। মস্কোও জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার কোনও বার্তা তারা ভারতের কাছ থেকে পায়নি।
কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার খোলা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে সরকারের মধ্যেই। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জোর দিয়ে বলেছেন, কৃষক ও দুগ্ধখাতের স্বার্থে কোনও আপস হয়নি। আবার প্রাক্তন বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিছু কৃষিপণ্য সীমিত পরিসরে আমদানি হতে পারে, তবে তাতে দেশীয় কৃষকের ক্ষতি হবে না।
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে—চুক্তির ঘোষণা কেন আগে একতরফা ভাবে ট্রাম্প করলেন? কেন ভারত সরকার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিল না? কংগ্রেসের আশঙ্কা, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে শুল্ক ১৮ শতাংশে নামার ফলে ভারতের রফতানি খাতে কিছু সুবিধা মিলতে পারে। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম বা চিনের তুলনায় ভারতের উপর শুল্ক আপাতত কম। বিশেষ করে বস্ত্র শিল্প এতে লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ‘জেনারালাইজ়ড সিস্টেম অফ প্রেফারেন্স’ (জিএসপি) সুবিধা এখনও ফেরেনি, ফলে লাভ কতটা হবে, তা সময়ই বলবে।
সব মিলিয়ে, শুল্কছাড় ও কৃষিতে সুরক্ষার আশ্বাসে আশাবাদ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যসমঝোতা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই