পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, বিদেশ মন্ত্রকের দ্বারস্থ পরিবার
তেলঙ্গানার মেহবুবনগরের বাসিন্দা মহম্মদ নিজ়ামুদ্দিন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৬ সালে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ফ্লরিডার এক কলেজ থেকে এমএস ডিগ্রি অর্জনের পর সেখানেই প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে কর্মসূত্রে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা—নিজ়ামুদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে আমেরিকার পুলিশ, এমনই অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত রুমমেটের সঙ্গে ঝামেলা থেকে। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এসি চালানো নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয় দুই রুমমেটের মধ্যে। সেই অশান্তি চরমে পৌঁছে যায়, এবং অভিযোগ ওঠে যে নিজ়ামুদ্দিন রুমমেটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে পরিস্থিতি দ্রুত ঘোর অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার রাউন্ড গুলি চালায়। সেখানেই প্রাণ হারান এই তরুণ প্রযুক্তিবিদ।
নিজ়ামুদ্দিনের বাবা মহম্মদ হাসানুদ্দিন সংবাদ সংস্থাকে জানান, তিনি ছেলের এক বন্ধুর কাছ থেকে এই ঘটনার কথা জানতে পারেন। কিন্তু আসল সত্যি কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, “আমার ছেলে কেন খুন হল, কী কারণে পুলিশ ওকে গুলি করল, আমরা কিছুই জানি না। শুধু শুনেছি, ওর দেহ এখন স্থানীয় এক হাসপাতালে রাখা আছে।”
এই ঘটনার পরই হাসানুদ্দিন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের কাছে সাহায্যের জন্য আর্জি জানিয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখে তিনি বিস্তারিত তদন্তের দাবি তোলেন এবং মৃতদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।
নিজ়ামুদ্দিনের পরিবার মনে করছে, এই ঘটনার পেছনে বর্ণবৈষম্যের ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁদের দাবি, ছেলের সঙ্গে রুমমেটের ঝামেলা থাকলেও পুলিশ যে ভাবে আচরণ করেছে, তা একেবারেই অমানবিক। আত্মীয়দের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের প্রতি বিদ্বেষী মানসিকতা এখনও প্রবল, আর সেই কারণেই হয়তো এত দ্রুত প্রাণঘাতী গুলি চালিয়েছে পুলিশ।
এক আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রুমমেটের সঙ্গে অশান্তি ছিল, সেটা সত্যি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালাবে। এটা সরাসরি হত্যার শামিল।”
এর আগে এমন একাধিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ভারতীয় সমাজ। বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য যাওয়া তরুণদের হঠাৎ মৃত্যু পরিবারগুলির কাছে অসহনীয় হয়ে দাঁড়ায়। এবারও তেমনই শোক এবং ক্ষোভে ভেঙে পড়েছে নিজ়ামুদ্দিনের পরিবার।
রুমমেটের সঙ্গে বিরোধ থেকে শুরু করে পুলিশের গুলির সিদ্ধান্ত—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলছে তাঁরা। একই সঙ্গে দাবি উঠেছে, আমেরিকার প্রশাসন কী কারণে এমন মারাত্মক পদক্ষেপ নিল, তার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া উচিত।
বর্তমানে মৃতদেহ স্থানীয় হাসপাতালে রাখা আছে। পরিবার একমাত্র আশা করছে, কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং প্রিয় ছেলের দেহ অন্তত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ফের একবার আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন মাটিতে ভারতীয়দের নিরাপত্তার প্রশ্ন। বিদেশে গিয়ে স্বপ্ন গড়তে চাওয়া বহু তরুণ-তরুণীর জন্য এ এক ভয়াবহ বার্তা—বিদেশে সাফল্যের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও কম নয়।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ