রামমন্দিরের প্রণামী চুরি মামলায় তিন অভিযুক্তের জামিন খারিজ!
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী নিয়ে কথিত অনিয়ম ও চুরির মামলায় আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তিন অভিযুক্তকে। সোমবার বিশেষ আদালত অবিনাশ শুক্ল, মনীশ কুমার যাদব এবং রামশঙ্কর মিশ্রের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। তিন জনই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন।
অভিযুক্তদের আইনজীবী কূলশেখর সিংহের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে যে কয়েকটি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতি এবং সরকারি কর্মচারীর অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত ধারাগুলি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তেরা সরকারি কর্মচারী নন। তাই ওই ধারাগুলি তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়েই আদালতে সওয়াল করা হয়েছে।
আইনজীবীর আরও দাবি, ওই ধারাগুলি বাদ দিলে বাকি অভিযোগগুলিতে সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে। সেই কারণে বিশেষ পরিস্থিতি না থাকলে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া যেতে পারে বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং চার্জশিটও এখনও দাখিল হয়নি বলে অভিযুক্তপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
এই মামলায় মোট আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মন্দিরের প্রণামী গণনা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২৫ জুন তাঁদের গ্রেফতারের পর থেকেই বিভিন্ন ধাপে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার তিন জনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরে বাকি অভিযুক্তদের জামিনের শুনানিও আলাদা দিনে হওয়ার কথা।
মামলাটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে শুনানির কারণে। ২১ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তকারী বিশেষ দল বা SIT আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম চার্জশিট দাখিল করবে। প্রথম গ্রেফতারের পর ৯০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে চার্জশিট জমা দেওয়ার বিষয়টিও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
SIT-এর তদন্তে মন্দির চত্বরে সিসিটিভি ফুটেজে প্রণামী থেকে টাকা সরানোর ১০৫টি সন্দেহজনক ঘটনা ধরা পড়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে। এই তথ্য তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই ঘটনাগুলির সঙ্গে কারা জড়িত এবং অভিযোগের কোন অংশ শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণিত হবে, তা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়।
প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ প্রণামী আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে টাকার অঙ্ক নিয়ে আলাদা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নির্দিষ্ট অঙ্ককে চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
মামলার তদন্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই মন্দিরের দান ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী ধারাগুলির বৈধতা এবং জামিনের পক্ষে নিজেদের বক্তব্য আদালতে তুলে ধরেছেন। ফলে এখন নজর রয়েছে SIT-এর চার্জশিট এবং আগামী শুনানির দিকে।
২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্তের প্রথম চার্জশিট জমা পড়ার কথা। তার পরেই স্পষ্ট হবে, তদন্তকারী সংস্থা কোন কোন অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।