চার প্রদেশ ভেঙে ১২-১৫টি রাজ্য গঠনের পরিকল্পনা পাকিস্তানে!
পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের চারটি প্রদেশকে ভেঙে ১২-১৫টি ছোট প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১৬০টি ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরির ভাবনাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার নেপথ্যে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাব গৃহীত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোর মূল ভিত্তি চারটি প্রদেশ— পঞ্জাব, সিন্ধ, বালোচিস্তান এবং খাইবার-পাখতুনখোয়া। ২০১০ সালে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাম বদলে খাইবার-পাখতুনখোয়া করা হয়। নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে দেশের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
কেন প্রদেশ ভাগের ভাবনা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের জনসংখ্যা ও আয়তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পঞ্জাব দেশের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ। অন্য দিকে, আয়তনে বৃহত্তম হলেও বালোচিস্তানের জনসংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। এই বৈষম্যের কারণে প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
ছোট ছোট প্রদেশ গঠন করা গেলে স্থানীয় সমস্যার সমাধান, সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে— এমন যুক্তি সামনে এসেছে। তবে প্রশাসনিক পুনর্গঠন করলেই দেশের আর্থিক সমস্যা বা নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব দীর্ঘদিনের। আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার মধ্যে নতুন করে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, প্রদেশের সংখ্যা বাড়লে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যেতে পারে। বর্তমানে পঞ্জাবে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ় (পিএমএল-এন) এবং সিন্ধে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ছোট ছোট প্রদেশ তৈরি হলে নতুন আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বালোচিস্তান ও খাইবার-পাখতুনখোয়ার চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তানের বালোচিস্তান ও খাইবার-পাখতুনখোয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সমস্যা চলছে। বালোচিস্তানে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং খাইবার-পাখতুনখোয়ায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশাসনিক এলাকা ছোট হলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে স্থানীয় পরিস্থিতি সামলানো সহজ হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আবার সমালোচকদের মতে, কেবল মানচিত্র বদলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বা রাজনৈতিক অসন্তোষের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষের দাবি, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতের অভিজ্ঞতা ঘিরে প্রশ্ন
পাকিস্তানে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের ইতিহাসও বিতর্কমুক্ত নয়। ১৯৫৫ সালে ‘ওয়ান ইউনিট’ পরিকল্পনার মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলিকে এক প্রশাসনিক কাঠামোয় আনা হয়েছিল। পরে ১৯৭০ সালে সেই ব্যবস্থা বাতিল করে পুরনো প্রাদেশিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয়।
তাই নতুন করে প্রদেশ ভাগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা পাকিস্তানের প্রশাসন, রাজনীতি ও নিরাপত্তার উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। আপাতত প্রস্তাবটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।