স্বাস্থ্যসাথীর টাকায় ‘জালিয়াতি’!!
সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য রাজ্যে। স্বাস্থ্য ভবনের অন্তর্তদন্তে পূর্ব বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুয়ো নথি ও বিল তৈরির অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপরই রাজ্যের একাধিক নার্সিংহোম ও হাসপাতালের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর।
অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথীর নিয়মের ফাঁক কাজে লাগিয়ে অস্ত্রোপচারের রোগীকে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’-এর আওতায় ভর্তি করিয়ে বেশি টাকার বিল দেখানো হয়েছে। যেখানে অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের খরচ সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসার নামে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এমন ১৪টি ঘটনার সন্ধান মিলেছে বলে দাবি স্বাস্থ্য ভবনের।
কী ভাবে ধরা পড়ল অনিয়ম?
সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে আচমকা পরিদর্শনে যায় স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধি দল। সেখানেই নথিপত্র খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি নজরে আসে। অভিযোগ, যে রোগের চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথীর নির্দিষ্ট প্যাকেজে নেই, সেই রোগীকেও অন্য রোগের নাম দেখিয়ে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ, মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে নথিতে চিকিৎসক হিসাবে অর্থোপেডিক সার্জনের নাম রয়েছে। অথচ এই ধরনের অস্ত্রোপচার সাধারণত নিউরোসার্জন করেন।
পুরনো রিপোর্ট ‘এডিট’ করার অভিযোগ
স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিকের দাবি, পুরনো স্ট্রোক রোগীদের সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। পরে অন্য রোগীকে স্ট্রোকের রোগী হিসাবে দেখানোর জন্য সেই রিপোর্টের নাম ও তারিখ কম্পিউটারে বদলে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
বেসরকারি নার্সিংহোমগুলির সংগঠনের একাংশের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনও নির্দিষ্ট হাসপাতালকে দোষী বলা যায় না।
নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কী বক্তব্য?
অভিযোগ ওঠা হাসপাতালের অন্যতম কর্ণধার পঙ্কজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ভবনের চিঠি তাঁরা পেয়েছেন। তাঁদের একাধিক হাসপাতাল থাকায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কী ঘটছে, মালিকের পক্ষে তা জানা সম্ভব নয় বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পান্ডে জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতির পক্ষে সংগঠন নয়। অভিযোগে জড়িত নার্সিংহোম বা হাসপাতালকে সংগঠনের সদস্য না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্যসাথী-সহ সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের বিপুল অর্থ কী ভাবে খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের নজরদারি আরও বাড়তে পারে। তদন্তে অভিযোগগুলি কতটা সত্যি, এখন সেটাই দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।