নিয়মিত এই ৫টি যোগাসনে মিলবে মাইগ্রেন থেকে মুক্তি!
বর্ষা এলেই মাইগ্রেনের যন্ত্রণা যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেক সময় সূর্য উঠলে যেমন মাথাব্যথা চেপে ধরে, ঠিক তেমনই বৃষ্টির দিনে হঠাৎ ঢিপঢিপে ব্যথা শুরু হয় কপালে বা চোখের চারপাশে। এই যন্ত্রণা কেবল কয়েক ঘণ্টা নয়, টানা দুই-তিন দিন অবধিও চলতে পারে। আর যখন ওষুধ কাজ করে না, তখন শরীর ও মনের উপশমের পথ হয়ে উঠতে পারে যোগাসন।
যোগব্যায়াম শুধু মাথাব্যথা কমায় না, বরং মাইগ্রেনের মূল কারণ অর্থাৎ মানসিক চাপ, স্নায়ুর টান ও রক্তসঞ্চালনের অভাবও দূর করে। ফিটনেস প্রশিক্ষক অনুপ আচার্য জানাচ্ছেন, নিয়মিত স্ট্রেস রিলিফ যোগাসন করলে এন্ডরফিন, অক্সিটোসিন ও ডোপামিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’-এর ক্ষরণ বাড়ে, যা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল উন্নত করে।
কোন কোন আসনে মাইগ্রেন কমে যায়?
এখানে দেওয়া হল পাঁচটি কার্যকর যোগাসন, যেগুলি নিয়মিত অভ্যাস করলে মাইগ্রেন থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব—
১. বালাসন (শিশু আসন)
মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসুন, নিতম্ব রাখুন গোড়ালির উপর। মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে দুই হাত পিছনে নিয়ে যান তালু উল্টে। ১০ সেকেন্ড থাকুন এই ভঙ্গিতে। দিনে ৪–৫ বার করুন। এটি মাথা ও ঘাড়ের টান কমিয়ে মানসিক চাপ দূর করে।
২. উত্তনাসন (ফরওয়ার্ড বেন্ড পোজ)
সোজা দাঁড়িয়ে কোমর থেকে শরীর সামনের দিকে ভাঁজ করুন। হাঁটু সোজা রেখে দুই হাত দিয়ে মাটি ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। পিঠ টানটান রাখুন। ১০–১৫ সেকেন্ড থাকুন। এটি স্নায়ু শিথিল করে, মাথার রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
৩. কর্প ওয়ার্কআউট (লাঞ্জ ভঙ্গি)
এক পা সামনে এনে হাঁটু ভাঁজ করুন, অন্য পা পেছনে টানুন। এক হাত ঊরুর উপর রেখে অন্য হাত মাথার উপর তুলে মুখ বরাবর রাখুন। শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে কয়েক সেকেন্ড থাকুন। এটি কাঁধ, ঘাড় ও পিঠের পেশিকে আরাম দেয়।
৪. অধোমুখ শবাসন (ডাউনওয়ার্ড ফেসিং ডগ পোজ)
হাত ও পায়ের পাতায় ভর দিয়ে হাঁটু না মুড়ে কোমর ও পিঠ তুলুন, যেন শরীর উল্টো V-এর আকার নেয়। মাথা নিচু রেখে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুন। এটি মাথায় অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে ব্যথা কমায়।
৫. পদ্মাসন (লোটাস পোজ)
সুখাসনে বসে ডান পা বাঁ ঊরুর উপর এবং বাঁ পা ডান ঊরুর উপর রাখুন। মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধ্যানের ভঙ্গিতে বসুন। মনঃসংযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চাপ কমিয়ে দেয় এই আসন।
খেয়াল রাখবেন:
- এক দিনে মাইগ্রেন পুরোপুরি সেরে যাবে না, কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসে তা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
- প্রথম দিন থেকে কসরত না করে ধীরে ধীরে সময় ও আসন বাড়ান।
- প্রতিটি আসনের মাঝে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
- অভ্যাসে স্থায়িত্ব আনুন—তবেই মিলবে দীর্ঘস্থায়ী উপকার।
শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি