দমদমে ডেঙ্গির ভয়াবহ ছোবল!
বর্ষার মরসুম এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই কলকাতা ও শহরতলিতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। দমদমের বেদিয়াপাড়ায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ১০ বছরের এক স্কুলছাত্রের। কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর বুধবার আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় জয়িষ্ণু মজুমদারের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই বার বার জ্বর আসছিল জয়িষ্ণুর। বুধবার সকালে জ্বরের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত রক্তপরীক্ষা করানো হলে ডেঙ্গি ধরা পড়ে। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে প্লেটলেটের মাত্রাও অস্বাভাবিক ভাবে কমে গিয়েছে।
পরিস্থিতি দেখে পরিবারের সদস্যেরা দ্রুত তাকে দত্তাবাদ সংলগ্ন একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা পরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জয়িষ্ণুর মৃত্যুর শংসাপত্রে ডেঙ্গিকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ডেঙ্গির জেরে শ্বাসযন্ত্রে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি নিউমোনিয়াল শকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও উল্লেখ রয়েছে।
ফের বাড়ছে ডেঙ্গির আশঙ্কা
প্রতি বছর বর্ষাকাল এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও শহরতলিতে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে। বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে এই সময়ে জ্বর, শরীর ব্যথা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বার বার মনে করিয়ে দেন বিশেষজ্ঞেরা।
জয়িষ্ণুর মৃত্যুর ঘটনা এমন সময় সামনে এল, যখন রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরও সক্রিয়। মঙ্গলবারই ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। বুধবারই দমদমে এক শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও আরও জোর দেওয়া হবে। শহর ও শহরতলিতে জল জমতে না দেওয়া এবং মশার লার্ভা ধ্বংস করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।