ইরানের অস্ত্রকারখানা কি এবার নিশানায়?
ইরানের রাজধানী তেহরানে বসবাসকারী নাগরিকদের উদ্দেশে রবিবার একটি চাঞ্চল্যকর বার্তা প্রকাশ করেছে ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে প্রকাশিত ওই বার্তায় স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, অস্ত্র উৎপাদন সংক্রান্ত কেন্দ্র ও পরিকাঠামোর আশপাশে যারা থাকেন, তাঁদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই বার্তার পর আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা জোরাল হয়েছে—ইরানের পরমাণু স্থাপনার পর এ বার কি অস্ত্র কারখানাই ইজ়রায়েলের নতুন লক্ষ্য?
কী বলছে ইজ়রায়েল?
রবিবার ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটজ় বলেন, ‘‘খামেনেই নিজের শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য তেহরানের সাধারণ নাগরিকদের কার্যত পণবন্দি করে তুলেছেন।’’ একই সঙ্গে, এক্সে ইজ়রায়েলি সেনার বার্তা আরও ইঙ্গিতবাহী। তাতে বলা হয়, ‘‘অস্ত্র তৈরির যেকোনও স্থাপনার আশেপাশে যারা বসবাস করছেন, তাঁদের এখনই ওই এলাকা ছাড়ার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো উচিত।’’
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি ইঙ্গিত যে, ইজ়রায়েল খুব শিগগিরই অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে আঘাত হানতে পারে। বিশেষত, যখন পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং সামরিক ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানে ভয় ধরানো হয়েছে, তখন অস্ত্রভাণ্ডারকে নিশানা করে আক্রমণ অস্বাভাবিক কিছু নয়।
ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ইরানের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের
শুক্রবার ইজ়রায়েলি বাহিনীর হাওয়াই হামলায় প্রাণ হারান ইরানের চার শীর্ষ সেনা অফিসার ও নয় জন গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিজ্ঞানী। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, রিয়্যাক্টর ফিজ়িক্স, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থবিদ্যা, এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একাধিক শীর্ষ গবেষক ও বিশেষজ্ঞ। নেতানিয়াহুর দেশ যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার। এখন অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করে সামরিক সক্ষমতাও নস্যাৎ করতে চাইছে বলেই ধারণা।
পাল্টা চাল ইরানের, তবে কিছুটা নরম সুর
এতকিছুর মধ্যেও ইরান নিশ্চুপ থাকেনি। শনিবার রাত থেকে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানায় ইজ়রায়েলে প্রাণ গিয়েছে অন্তত ১০ জনের। তবে রবিবার ইরান কিছুটা সুর নরম করেছে। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, “বিদেশি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়াতেই আমরা জবাব দিচ্ছি। আগ্রাসন বন্ধ হলে আমরাও প্রত্যাঘাত থামিয়ে দেব।”
তাহলে কী পরিণতি?
তেহরান এবং তেল আভিভের মধ্যে এই টানটান উত্তেজনার আবহে ইজ়রায়েলের এই সতর্কবার্তা শুধু আগাম হুঁশিয়ারি, না কি আসন্ন আর এক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস—তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের লক্ষ্যে অভিযান শুরু হলে গোটা পশ্চিম এশিয়া এক ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে বাধ্য।
ভারতে আসছে স্যামসাং Galaxy S25 সিরিজের One UI 8 বিটা ভার্সন! কী কী থাকছে এই আপডেটে?