৩০-এর পর কোন বয়সে কী স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি?
শরীরের বড় কোনও অসুখ এক দিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে নানা পরিবর্তন চলতে থাকে, যার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। Indian Council of Medical Research (আইসিএমআর)-এর নির্দেশিকাতেও বয়স অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সেই হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস, থাইরয়েডের সমস্যা এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং ভবিষ্যতের জটিল রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৩০ বছর পার হলে
৩০ বছর বয়সের পর থেকেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়মিত করানো উচিত।
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও HbA1c: ডায়াবিটিস বা প্রি-ডায়াবিটিসের ঝুঁকি রয়েছে কি না তা জানতে।
- লিপিড প্রোফাইল: কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করে হৃদ্রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।
- রক্তচাপ পরীক্ষা: ১৮ বছর বয়সের পর থেকেই নির্দিষ্ট বিরতিতে রক্তচাপ মাপা উচিত।
- মহিলাদের জন্য প্যাপ স্মিয়ার: ২১ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি তিন বছর অন্তর এই পরীক্ষা জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
৪০ বছর পার হলে
৪০-এর পর শরীরে নানা পরিবর্তনের কারণে কিছু অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC): রক্তাল্পতা, সংক্রমণ থেকে শুরু করে কিছু রক্তের ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিতও মিলতে পারে।
- থাইরয়েড প্রোফাইল: হরমোনের ভারসাম্য ঠিক আছে কি না তা জানতে।
- চোখের গ্লকোমা পরীক্ষা: দৃষ্টিশক্তি ও চোখের স্নায়ুর সমস্যা আগেভাগে ধরতে সাহায্য করে।
- মহিলাদের ম্যামোগ্রাম: স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে
বয়স্কদের ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
- স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং: ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা মেলানোমার ঝুঁকি নির্ণয়ে।
- পিএসএ (PSA) পরীক্ষা: পুরুষদের প্রস্টেটের সমস্যা বা প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা মূল্যায়নে।
- কোলোনোস্কোপি: বিশেষ করে অন্ত্রের সমস্যা বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে কোলন ক্যানসার শনাক্ত করতে।
- হৃদ্রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা: প্রয়োজন অনুযায়ী ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, করোনারি ক্যালসিয়াম স্কোর, অ্যাঞ্জিওগ্রাম বা এমআরআই করা যেতে পারে।
- ব্লাড প্রোটিন টেস্ট: কিছু রক্তজনিত রোগ বা ক্যানসারের ঝুঁকি মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে।
মনে রাখবেন
এই নির্দেশিকাগুলি সাধারণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। কারও যদি পরিবারে ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ, ক্যানসার বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগের ইতিহাস থাকে, অথবা আগে থেকেই কোনও অসুখ ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে বা বেশি ঘন ঘন পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুধু রোগ শনাক্ত করতেই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই গুরুতর অসুখকে প্রাথমিক অবস্থায় ধরে চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ করে দেয়। তাই বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ করে তোলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?