হার্ট অ্যাটাক: ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ !
আজকের ব্যস্ত জীবনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। নানা কারণে আমাদের শরীরের অবস্থা খারাপ হতে পারে, যার মধ্যে অন্যতম হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চলুন, জেনে নিই এমন পাঁচটি অভ্যাস যা আপনার হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
১) বেশি সময় বসে থাকা নয়:
বহু গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের দীর্ঘ সময় বসে থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, টাটকা বাতাসে কিছুটা সময় কাটানো, সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা এবং শরীরের হালকা নড়াচড়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাই চেষ্টা করুন, কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি বা কোনও শারীরিক কাজ করুন, যাতে আপনার হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে।
২) ভাল ঘুমের গুরুত্ব:
শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ভাল ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে তা কিভাবে সম্ভব? চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, যদি আপনি নিয়মিত এক ঘণ্টা আগে ঘুমাতে যান, তবে ধীরে ধীরে আপনার ঘুমের অভ্যেস স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এর ফলে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে।
৩) মোবাইল ও স্ক্রিন টাইম কমানো:
বর্তমান যুগে মোবাইল ও স্ক্রিন ছাড়া জীবন ভাবা যায় না। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে ক্লান্তি বেড়ে যায়। একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে, আপনি ভালভাবে বিশ্রাম নিতে পারবেন এবং হৃদরোগের প্রতি সচেতনতা আরও বাড়াতে পারবেন।
৪) খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা:
বাড়ির বাইরে যেতে হলে সাধারণত জুতো পরা হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটাও উপকারী। মাটি বা ঘাসের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি যোগাযোগ শরীরের রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে এবং এটি হৃদপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। খালি পায়ে হাঁটা আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারি।
৫) ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা:
ধূমপান এবং মদ্যপান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। হার্ট অ্যাটাক এমন এক বিপদ, যা অনেক সময় হঠাৎই হয়ে যায় এবং এর ফলে পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার আগেই বিপদ চলে আসে। তাই এগুলো ত্যাগ করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের দুনিয়ায় যে হার্ট অ্যাটাক একটি ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই পাঁচটি সাধারণ অভ্যাস অনুসরণ করলে আমরা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারি। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাসগুলো জীবনযাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মিথ্যাচারের তৎপরতা: ভুয়ো খবরকে হাতিয়ার করছে পাকিস্তান