বাবার সুস্থতা নিশ্চিত করতে জরুরি ৭টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা!
বয়সের সাথে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে, বিশেষ করে যখন বয়স ৭০-এর কোঠা পার হয়। এই সময় শরীরকে সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের সুস্থ রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে রাখা উচিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা অবশ্যই করানো দরকার।
১. ত্বকের ক্যানসার পরীক্ষা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসার। অনেকেই এই পরীক্ষা এড়িয়ে যান, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং করানো খুবই জরুরি। সন্দেহজনক কোনো তিল বা ত্বকের দাগ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
২. প্রস্টেট পরীক্ষা (PSA টেস্ট)
পুরুষদের জন্য ৭০ বছর বয়সের পর ‘প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন’ বা PSA টেস্ট করানো জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্টেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এটি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে PSA-এর মাত্রা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত, এই মাত্রা ১ থেকে ৪-এর মধ্যে থাকলে স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে ৪-এর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
৩. পেটের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (কোলোনোস্কোপি)
বয়স বাড়লে অনেকেরই হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে, যাঁরা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)-এ ভুগছেন, তাঁদের অবশ্যই কোলোনোস্কোপি করিয়ে রাখা উচিত। এটি অন্ত্রের টিউমার বা অন্যান্য জটিলতা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
৪. কোলেস্টেরল পরীক্ষা (লিপিড প্রোফাইল টেস্ট)
হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতি বছর অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করানো জরুরি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, রক্তে ভালো ও খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কতটা আছে। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে, তাই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৫. রক্তে শর্করার পরীক্ষা (ব্লাড সুগার)
ডায়াবিটিস বর্তমানে অনেকের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষত বয়স্কদের জন্য। নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার, যাতে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। হিমোগ্লোবিন এ১সি (HbA1c), ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT) এবং ফাস্টিং ব্লাড সুগার পরীক্ষা করানো উচিত।
৬. হার্টের পরীক্ষা
হার্ট সুস্থ থাকলে পুরো শরীর ভালো থাকে। তাই নিয়মিত ইসিজি (ECG), ইকোকার্ডিয়োগ্রাম, করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম বা প্রয়োজনে এমআরআই করানো দরকার। যারা উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই পরীক্ষা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৭. চোখের পরীক্ষা
বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের সমস্যাও বাড়তে পারে, বিশেষ করে গ্লকোমা এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি থাকে। ইনট্রাঅকুলার প্রেসার টেস্ট, কালার ভিশন টেস্ট এবং অপটিকাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি (OCT) করিয়ে রাখা ভালো।
উপসংহার
৭০ বছরের পর শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ঠিক আছে কি না, তা জানার জন্য এই পরীক্ষাগুলো করানো অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা করালে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। তাই বাবার সুস্থতা নিশ্চিত করতে, আজই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিন।
ন’মাস পর পৃথিবীতে ফিরছেন সুনীতা উইলিয়ামস! নাসা জানাল অবতরণের নির্দিষ্ট সময়