শরীরচর্চার আগে না পরে?
ফিটনেসপ্রেমীদের মধ্যে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারণ নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও অনেক সময় দৈনন্দিন খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায় না। তাই জিমে যাওয়ার আগে বা পরে প্রোটিন শেক খাওয়ার ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন থাকে—কখন খেলে শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো? আসুন, এই বিষয়টা একটু বুঝে নেওয়া যাক।
প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট মূলত দুই ধরনের হয়—এক ধরনের ‘প্রি-ওয়ার্কআউট’, অর্থাৎ শরীরচর্চার আগে খাওয়া হয়, আর অন্য ধরনের ‘পোস্ট-ওয়ার্কআউট’, অর্থাৎ ব্যায়ামের পরে নেওয়া হয়। সাধারণত এগুলো গুঁড়োর আকারে পাওয়া যায়, যা জল বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়।
শরীরচর্চার সময় আমাদের পেশির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ছোটোখাটো ক্ষতি হয়। সেই ক্ষত সারাতে দেহ পেশিগুলোকে আবার নতুন করে গড়ে তোলে। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে। তাই ব্যায়ামের পর প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খেলে পেশির মেরামত দ্রুত হয় এবং পেশির ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, শরীরচর্চার আগে প্রোটিন খাওয়া নিয়ে একটু সাবধান থাকা উচিত। কারণ অনেক সময় প্রোটিন শেক পেটে ভারি লাগে, যা শরীরচর্চার সময় অসুবিধা করতে পারে। তাই শরীরচর্চার আগে প্রোটিন খেলে অন্তত ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত, যাতে হজমের জন্য সময় পাওয়া যায় এবং ব্যায়ামের সময় কোনো অসুবিধা না হয়।
শরীরচর্চার পরে প্রোটিন শেক খেলে দেহে শক্তির ঘাটতি দূর হয়, দ্রুত পুনরুদ্ধার ঘটে এবং পেশির উন্নতি হয়। তাই অধিকাংশ ফিটনেস বিশেষজ্ঞই বলবেন, প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময় হল শরীরচর্চার পরের সময়কাল।
তবে মনে রাখতে হবে, প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কোনো অলৌকিক খাদ্য নয়। এটি শুধু সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। বেশি প্রোটিন খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, যদি আপনি ফিটনেসে আগ্রহী হন এবং পেশির উন্নতি চান, তাহলে শরীরচর্চার পরেই প্রোটিন শেক নেওয়াই শ্রেয়। তবে যদি সময়ের অভাব থাকে বা শরীরচর্চার আগে প্রোটিন খেতে চান, তাহলে অন্তত আগে থেকে খান এবং অতিরিক্ত ভারি খাবার থেকে বিরত থাকুন।
সুস্থ দেহ ও শক্তিশালী পেশি গঠনের জন্য শুধু প্রোটিন নয়, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামও অপরিহার্য। তাই এই তিনটির সঠিক সমন্বয় বজায় রাখাই হবে আপনার ফিটনেস যাত্রার সেরা উপায়।
শেষ কথা, শরীরচর্চার আগে না পরে—সঠিক সময় নির্বাচন করলে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের সুফল পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই নিজের শরীরের কথা ভেবে, প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে প্রোটিন খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সুনামির আতঙ্কে থমকে নেই লিভারপুলের জাপান সফর, মারিয়ানোসের বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দ