যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নাকি নতুন উত্তেজনা? ট্রাম্পের মন্তব্যে পাল্টা কড়া বার্তা ইরানের

ট্রাম্পের মন্তব্যে পাল্টা কড়া বার্তা ইরানের! পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত চলছে তা…

March 10, 2026
1 min read

ট্রাম্পের মন্তব্যে পাল্টা কড়া বার্তা ইরানের!

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত চলছে তা প্রায় শেষের দিকে। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি—যুদ্ধ কবে থামবে, সেই সিদ্ধান্ত আমেরিকা বা অন্য কেউ নয়, নেবে ইরানই।

কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে যুদ্ধ হয়তো আরও তিন–চার সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু নতুন করে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাত এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরানের তেলের খনিগুলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এই মন্তব্য ঘিরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ পশ্চিম এশিয়ার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে তেলের ভাণ্ডারের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বে উঠে এসেছেন Mojtaba Khamenei, যিনি দীর্ঘদিনের নেতা Ali Khamenei-এর পুত্র। এই পরিবর্তনের পর থেকেই তেহরান স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, তারা এত দ্রুত আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাত থামাতে আগ্রহী নয়।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানায় ইরানের শক্তিশালী সামরিক সংগঠন Islamic Revolutionary Guard Corps। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত আমরা নেব। আমেরিকার সেনাবাহিনী এই সংঘাতের শেষ নির্ধারণ করবে না।”

তাদের আরও দাবি, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ এখন ইরানের সামরিক শক্তির উপরেই নির্ভর করছে। আমেরিকা বা তার মিত্ররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সেই বিবৃতিতে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অবশ্য অন্যরকম ছবি তুলে ধরছে। মায়ামির একটি গল্ফ রিসর্টে রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাঁদের অভিযান ছিল সীমিত সময়ের জন্য। তাঁর কথায়, “কিছু বিপজ্জনক শক্তিকে সরাতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। খুব দীর্ঘ সময় সেখানে থাকতে হবে বলে মনে হয় না।”

পরে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি আরও বলেন, তাঁর মতে যুদ্ধ অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। নৌবাহিনী, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বায়ুসেনা—সব ক্ষেত্রেই তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এই মন্তব্যের পরই নতুন প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি ভবিষ্যতে ইরানের তেলের খনি বা জ্বালানি সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা ভাবছে আমেরিকা? এই বিষয়ে সরাসরি কোনও উত্তর দেননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, এ নিয়ে এখনই আলোচনা করতে চান না।

তবে তাঁর একটি মন্তব্য জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে অনেকেই কথা বলছে।”

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। একদিকে আমেরিকার দাবি—সংঘাত শেষের পথে। অন্যদিকে ইরানের বার্তা—লড়াই থামানোর সিদ্ধান্ত তাদেরই। ফলে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *