ট্রাম্পের ফোনের কথা স্বীকার ইনফান্তিনোর, তবে লাল কার্ড সিদ্ধান্তে ‘কোনও রাজনৈতিক প্রভাব নেই’ দাবি ফিফা সভাপতির

ট্রাম্পের ফোনের কথা স্বীকার ইনফান্তিনোর! আমেরিকার ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড ও পরে তাঁর নির্বাসন প্রত্যাহার ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি স্বীকার করেছেন…

July 7, 2026
1 min read

ট্রাম্পের ফোনের কথা স্বীকার ইনফান্তিনোর!

আমেরিকার ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড ও পরে তাঁর নির্বাসন প্রত্যাহার ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তবে সেই কথোপকথনের সঙ্গে ফিফার সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।

ফিফার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপ আয়োজন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ হয়। বালোগুনের লাল কার্ড নিয়েও আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছিল সম্পূর্ণভাবে ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির।

ইনফান্তিনো বলেন, “হ্যাঁ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে ফোন করেছিলেন। তবে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম যে বিষয়টি ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি দেখছে। নিয়ম অনুযায়ী তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়ায় আমার ব্যক্তিগত মত বা বাইরের কোনও অনুরোধের ভূমিকা নেই।”

বালোগুনের নির্বাসন প্রত্যাহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর ফিফা সভাপতির এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে মনে করেছে যে, লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি প্রয়োজনের তুলনায় কঠোর ছিল। সেই কারণেই শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তিনি ফিফাকে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমি শুধু বলেছিলাম ঘটনাটা আবার দেখুন। সিদ্ধান্ত বদলানোর নির্দেশ দিইনি। আমার মনে হয়েছিল ওটা লাল কার্ডের মতো ফাউল নয়।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাঠে দুই ফুটবলারের মধ্যে স্বাভাবিক গতিতে সংঘর্ষ হয়েছিল, সেটিকে অতিরঞ্জিত করে দেখা হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যাচের রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। যদিও এই মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

বালোগুনের শাস্তি প্রত্যাহারের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অতীতে বহু তারকা ফুটবলার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কার্ড সমস্যার কারণে খেলতে পারেননি। কিন্তু সে সময় কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের হস্তক্ষেপ বা এমন বিতর্ক সামনে আসেনি।

এই ঘটনার পর বেলজিয়াম প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়। পরে ফ্রান্সও নিজেদের ফুটবলার মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। ফলে একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোকেও একই ধরনের দাবি তোলার সুযোগ করে দিতে পারে, সেই প্রশ্নও উঠছে।

ইনফান্তিনো যদিও বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ফিফার প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। তবু বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে বিতর্ক এখনও থামেনি। বালোগুন-কাণ্ড যে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত অফ-দ্য-ফিল্ড ইস্যুগুলির একটি হয়ে উঠেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *