ট্রাম্পের মন্তব্যে জল্পনা!
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই-এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনেই “৯০ শতাংশ শেষ” হয়ে গিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফক্স নিউজ়-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্য, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই প্রসঙ্গেই ট্রাম্প বলেন, “ওদের কোনও নৌবাহিনী নেই, বায়ুসেনাও নেই। সব শেষ হয়ে গেছে। ওদের নেতারাও প্রায় সবাই নিহত। খোমেইনিও শেষ।” তবে এই মন্তব্যে একটি স্পষ্ট বিভ্রান্তিও ধরা পড়ে। তিনি রুহোল্লা খোমেইনি এবং মোজতবা খামেনেই-কে গুলিয়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, রুহোল্লা খোমেইনি ছিলেন ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং তিনি ১৯৮৯ সালেই মারা যান। পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আলি খামেনেই। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মোজতবা খামেনেই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন।
আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনেই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আগে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি। এমনকি তাঁর পিতা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যেও তাঁকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়।
যদিও ইরান সরকার একাধিকবার মোজতবার বার্তা ও বিবৃতি প্রকাশ করেছে এবং দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে তাঁর প্রকাশ্যে অনুপস্থিতি এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে মোজতবা খামেনেইয়ের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিস্থিতি নিয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য না আসা পর্যন্ত এই ধরনের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?