‘শেষ নয় লড়াই’, কঠোর বার্তা ইরানের!
দু’সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হলেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যে এখনও উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট করে দিল ইরান। যুদ্ধ থামলেও লড়াই শেষ হয়নি— এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Mojtaba Khamenei স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক। তাঁর কথায়, “যুদ্ধ শেষ হয়নি। শত্রুপক্ষ— বিশেষ করে United States বা Israel— যদি কোনও পদক্ষেপ করে, ইরানও সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিতে প্রস্তুত।” যদিও আপাতত সেনাবাহিনীকে আক্রমণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবুও সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তরফেও একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে— এই সংঘাতে তাদের অধিকাংশ সামরিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এমনকি তারা এই পরিস্থিতিকে “ঐতিহাসিক জয়” বলেও উল্লেখ করেছে। তেহরানের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করলেও তারা কখনও United States-এর কাছে নতি স্বীকার করেনি।
এই সংঘর্ষবিরতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে Pakistan। দুই পক্ষই স্বীকার করেছে, ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ খুলেছে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে Islamabad-এ নতুন করে আলোচনার সূচনা হওয়ার কথা, যেখানে ইরান তাদের ১০ দফা প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।
এই প্রস্তাবই ভবিষ্যতের শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে— আলোচনা সফল না হলে বা শর্ত মানা না হলে, তারা আবারও সামরিক পথে ফিরতে পিছপা হবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-ও এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে United States। হোয়াইট হাউসের তরফেও জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি মার্কিন প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর একটি বড় সাফল্য।
অর্থাৎ, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরছে— যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বাইরে থেকে শান্তির ছবি দেখা গেলেও ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা যে রয়েই গেছে, তা পরিষ্কার।
সব মিলিয়ে, এই সংঘর্ষবিরতি যেন এক বিরতির মতো— চূড়ান্ত সমাধান নয়। আগামী কয়েক দিনের আলোচনা এবং কূটনৈতিক চালচলনই ঠিক করবে, এই যুদ্ধ সত্যিই শেষের পথে এগোচ্ছে, নাকি আবারও নতুন করে আগুন জ্বলতে পারে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না