মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা: যে পাঁচটি পরীক্ষায় আগেভাগেই ধরা পড়বে ক্যানসারের ঝুঁকি

মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা! বয়স ত্রিশ পেরিয়ে গেলে মহিলাদের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু কাজের চাপে বা পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কারণে অনেকেই নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে ভুলে যান।…

July 12, 2025
1 min read

মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা!

বয়স ত্রিশ পেরিয়ে গেলে মহিলাদের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু কাজের চাপে বা পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কারণে অনেকেই নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে ভুলে যান। বিশেষ করে স্তন ক্যানসার, জরায়ুমুখের ক্যানসার বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের মতো রোগগুলির ক্ষেত্রে আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকরা বারবার বলছেন, বয়স ত্রিশের পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে রাখা উচিত, যা সময় থাকতেই ক্যানসারের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

এখানে এমন পাঁচটি পরীক্ষার কথা জানানো হলো, যা মহিলাদের নিয়মিত করিয়ে রাখা প্রয়োজন:

১. প্যাপ টেস্ট

জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য প্যাপ টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষায় জরায়ুমুখ থেকে কোষ সংগ্রহ করে দেখা হয়, সেগুলিতে কোনও অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৬৫ বছর পর্যন্ত প্রতি তিন বছর অন্তর প্যাপ টেস্ট করানো উচিত। জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রথম স্তরেই ধরা পড়লে তা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। তাই এই টেস্ট এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

২. ম্যামোগ্রাম

স্তন ক্যানসার বর্তমানে অন্যতম বেশি দেখা যাওয়া ক্যানসার। সময় থাকতেই শনাক্ত করতে হলে ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মহিলাদের ম্যামোগ্রাম করিয়ে রাখা প্রয়োজন। এটি বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যা স্তনের টিস্যু পরীক্ষা করে অস্বাভাবিকতা বা টিউমার শনাক্ত করতে সাহায্য করে। প্রতি এক থেকে দুই বছর অন্তর এই পরীক্ষা করানোই ভালো।

৩. এইচপিভি ডিএনএ টেস্টিং

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) জরায়ুমুখের ক্যানসারের অন্যতম কারণ। প্যাপ টেস্টের পাশাপাশি এইচপিভি ডিএনএ টেস্টও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ৩০ বছরের পরে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই টেস্ট করালে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। কারণ, ভাইরাসটি অনেক সময় শরীরে থেকে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়।

৪. বিআরসিএ১ এবং বিআরসিএ২ জিন স্ক্রিনিং

পরিবারে স্তন, জরায়ুমুখ অথবা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে এই দুই জিনের স্ক্রিনিং করানো জরুরি। বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিনে পরিবর্তন থাকলে স্তন এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই বয়স ত্রিশ পেরিয়ে গেলে আগে থেকেই এই জিন স্ক্রিনিং করিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. হিস্টেরোস্কোপি

জরায়ুর ভিতরের অংশ সরাসরি দেখার জন্য হিস্টেরোস্কোপি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ক্যামেরাযুক্ত একটি সরু নল জরায়ুমুখ দিয়ে জরায়ুর ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। এতে জরায়ুর আস্তরণে কোনও টিউমার বা পলিপ আছে কি না তা পরিষ্কার বোঝা যায়। বিশেষ করে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা অন্য সমস্যা থাকলে এই পরীক্ষা জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সময় থাকতেই যদি এই পাঁচটি পরীক্ষা করানো যায়, তবে মহিলারা ক্যানসারের ভয় অনেকটাই কমাতে পারবেন। স্বাস্থ্য সচেতনতা শুধু পরিবারের অন্যদের জন্য নয়, নিজের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেটার চাহালের সঙ্গে নাম জড়ানো আরজে মাহবিশের নতুন চমক, কিনে নিলেন নিজস্ব ক্রিকেট দল!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *