আমেরিকায় এল লেনাক্যাপাভির, ভারতের অপেক্ষা কবে ফুরাবে?
মারণ ভাইরাস এইচআইভি বা এডস প্রতিরোধে আশার আলো দেখাল বিজ্ঞান। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সদ্য অনুমোদন দিয়েছে একটি নতুন ওষুধকে, যার দাবি অত্যন্ত চমকপ্রদ—এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কা ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে এই ওষুধ, তাও বছরে মাত্র দু’টি ইনজেকশনে!
এই যুগান্তকারী ওষুধটির নাম লেনাক্যাপাভির (Lenacapavir)। যৌথ ভাবে তৈরি করেছে গিলিয়েড সায়েন্সেস এবং ভারতের ডক্টর রেড্ডি’জ ল্যাবরেটরি। এখনই যদিও শুধুমাত্র আমেরিকায় এটি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে, তবে ভারতের বাজারে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। হায়দরাবাদভিত্তিক ডক্টর রেড্ডি’জ জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)-এর অনুমতির অপেক্ষায়।
কী এই লেনাক্যাপাভির, আর কীভাবে কাজ করে?
লেনাক্যাপাভির কোনও ট্যাবলেট নয়, এটি একটি ইনজেকশনযোগ্য ওষুধ। প্রতি ছ’মাস অন্তর এক বার শরীরে এই ইঞ্জেকশন নিলেই ভাইরাস থেকে কার্যকর সুরক্ষা মিলবে বলে গবেষকদের দাবি। মূলত, এটি শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং টি-সেল ও বি-সেল লিম্ফোসাইটকে সক্রিয় করে তোলে, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস না পায়।
এইচআইভি ভাইরাস সাধারণত শরীরে ঢুকে রোগপ্রতিরোধী কোষগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক রূপ নেয়। কিন্তু লেনাক্যাপাভির সেই কোষগুলিকেই শক্তিশালী করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা তৈরি করে।
ট্রায়ালের ফল কতটা আশাজাগানিয়া?
লেনাক্যাপাভিরের তিনটি পর্যায়ে ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়েছে:
- প্রথম ট্রায়াল: আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ২১৩৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি ৯০ শতাংশ কমেছে।
- দ্বিতীয় ট্রায়াল: আমেরিকা-সহ আরও কিছু দেশে ২১৭৯ জনের উপর এই ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, এইচআইভি সংক্রমণ ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
- তৃতীয় ট্রায়াল: আরও বড় সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর উপর, ফলাফল একই রকম শক্তিশালী।
এছাড়াও দেখা গিয়েছে, রোগ নিরাময় না হলেও, সংক্রমণ থাকলেও ওষুধটি রোগের তীব্রতা কমায় এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ভারতের বাজারে কবে?
যেহেতু ভারতের সংস্থা ডক্টর রেড্ডি’জ এই ওষুধ তৈরি প্রক্রিয়ার অন্যতম অংশীদার, তাই অনুমোদন মিললেই খুব দ্রুত বাজারে আসবে এই ইনজেকশন। ভারতে প্রতি বছর কয়েক হাজার নতুন এইচআইভি আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়, তাঁদের জন্য এটি এক নতুন আশার আলো হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ওষুধটি প্রতিরোধমূলক, অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত এটি শুধুমাত্র সংক্রমণ আটকাতে ব্যবহারের জন্য স্বীকৃত। রোগ পুরোপুরি সারানোর উপায় এখনো আসেনি। তবে এটিই যে এডস নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ, তা মানছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।
বিমানের প্রতি ভয় বাড়ছে? দুর্ঘটনার পরে যাত্রীদের মনে ঘনীভূত ‘ফ্লাইট অ্যাংজাইটি’