“পাকা চুলেই লুকিয়ে সুরক্ষা!” — ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় ধবধবে সাদা চুল, জানালেন বিজ্ঞানীরা

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় ধবধবে সাদা চুল, জানালেন বিজ্ঞানীরা বয়স বাড়লে চুল পেকে যাওয়া যেন এক অনিবার্য সত্য। তিন দশকের তরতাজা বয়সেই সিঁথির ধারে সাদা চুলের দেখা মিললে বহু মানুষই দুশ্চিন্তায়…

November 26, 2025
1 min read

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় ধবধবে সাদা চুল, জানালেন বিজ্ঞানীরা

বয়স বাড়লে চুল পেকে যাওয়া যেন এক অনিবার্য সত্য। তিন দশকের তরতাজা বয়সেই সিঁথির ধারে সাদা চুলের দেখা মিললে বহু মানুষই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কখনও পার্লারের রং, কখনও ঘরোয়া টোটকা—সব চেষ্টা করেও যেন শেষ পর্যন্ত চুলের ‘স্বাভাবিক শত্রু’ সেই সাদা রঙকেই হারানো যায় না। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, পাকা চুল নিয়ে আফশোস করার কোনও কারণ নেই। বরং এক মাথা পাকা চুলই নাকি শরীরকে রক্ষা করছে ভয়ঙ্কর রোগ ক্যানসার থেকে!

হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন—
চুল যত বেশি পাকবে, ততই আপনি ক্যানসারের নির্দিষ্ট ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত।


❖ পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের কী সম্পর্ক?

গবেষণা বলছে, চুলের গোড়ায় থাকা মেলানোসাইট নামক রঞ্জক কোষ চুলের রং নির্ধারণ করে। এই কোষ থেকেই তৈরি হয় মেলানিন, যা চুলকে কালো বা বাদামি করে। কিন্তু বয়স বাড়লে বা নানা কারণে যখন মেলানোসাইট কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, তখন রঞ্জক উৎপাদনও থেমে যায়। ফল—চুল সাদা।

বিজ্ঞানীদের মতে—

মেলানোসাইট কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই তার বিভাজনও থেমে গেছে। আর বিভাজনহীন কোষ ক্যানসারে রূপ নিতে পারে না।

কারণ, ক্যানসারের মূল কারণই হল কোষের অস্বাভাবিক ও দ্রুত বিভাজন।

অর্থাৎ—

চুল পেকে যাওয়া মানে এই কোষ আর ‘বিপজ্জনক’ বিভাজনে যেতে পারবে না। ফলে শরীর এক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে।


❖ কোন ক্যানসারের কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা?

সবচেয়ে গুরুতর ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার পিছনে দায়ী এই মেলানোসাইট কোষই।
যখন এই কোষগুলি অতিবেগুনি রশ্মি বা রাসায়নিকের প্রভাবে দ্রুত ও ভুলভাবে বেড়ে ওঠে, তখনই টিউমার তৈরি হয়।

কিন্তু—

  • যখন কোষটি অকেজো
  • বিভাজন ক্ষমতা হারিয়েছে
  • রঞ্জক উৎপাদন বন্ধ

তখন সেটি আর ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে না।

এ কারণেই পাকা চুলকে বিজ্ঞানীরা “প্রাকৃতিক সুরক্ষা-কবচ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


❖ ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে কী জানতে পারলেন গবেষকেরা?

পরীক্ষায় দেখা গেছে—

  • মেলানোসাইট অচল হয়ে গেলে কোষের ডিএনএ ভেঙে নষ্ট হয়
  • ফলে বিভাজন স্থায়ীভাবে থেমে যায়
  • আর বিভাজন নেই মানেই ক্যানসারের ঝুঁকি কম

কিন্তু বিপদ লুকিয়ে আছে অন্য দিকে।

যদি এই অকেজো কোষকে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং বা অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনা হয়, তবে—

  • আবার বিভাজন শুরু হতে পারে
  • ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ নিয়েই কোষ বাড়তে থাকে
  • আর তখনই ক্যানসারের আশঙ্কা তৈরি হয়

অর্থাৎ, পাকা চুল ঢাকতে বেশি মাত্রায় রাসায়নিক রং ব্যবহার করলে বিপদ বাড়তে পারে।


❖ তাহলে কী করবেন? পাকা চুল রাখবেন?

গবেষকদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট—

“পাকা চুল বার্ধক্যের লক্ষণ হলেও তা শরীরের জন্য বিপজ্জনক নয়, বরং নিরাপদ।”

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *