লিখিত জবাবের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় শুভেন্দুকে!
ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা নির্বাচনী মামলায় তাঁর পক্ষে এ দিন আদালতে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দুর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী মমতা। ফলাফল ঘোষণার পর ভোটপ্রক্রিয়া এবং বিশেষ করে গণনার সময় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে নির্বাচনী মামলা করেন মমতা। মামলাটি Representation of the People Act-এর অধীনে দায়ের করা হয়েছে। আদালত প্রাথমিক ভাবে মামলাটি গ্রহণ করে শুনানি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
মমতার আইনজীবী কল্যাণের অভিযোগ, গণনার সময় একাধিক অনিয়ম হয়েছিল। তাঁর দাবি, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টকে মারধর করে বার করে দেওয়া হয়েছিল এবং মমতাকেও গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গণনার নির্দিষ্ট একটি পর্যায়ের পর ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের অভিযোগও মামলায় তোলা হয়েছে। তবে এগুলি মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ; আদালত এখনও এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
এর আগে জুনের শুনানিতে বিচারপতি কান্ত ভবানীপুরের ভোটসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি কেন্দ্রটির সব ইভিএম, কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট এবং ভিভিপ্যাট মেশিন নিরাপদে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নথি সংরক্ষণের নির্দেশ রয়েছে।
মামলায় ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলেছেন মমতার আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, ওই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককেই পরে ভবানীপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নন্দীগ্রামের নির্বাচন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে আদালতে দাবি করেন তিনি। তবে এই বক্তব্যগুলিও মামলাকারী পক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
অন্য দিকে, মামলার জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিল শুভেন্দুর আইনজীবী। আগের শুনানিতেও আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার বিচারপতি কান্ত লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেন।
মামলাটি এখন ভোটে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সংরক্ষিত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।