সেখান থেকে IIT-IPS! আমেরিকায় ‘এশিয়ান হিরো’!
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রি-বোর্ড পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। অথচ সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সফলতা, আইআইটি দিল্লিতে পড়াশোনা এবং শেষে ইউপিএসসি পেরিয়ে আইপিএস। এ বার সেই দীর্ঘ যাত্রার জন্য আমেরিকায় সম্মান পেতে চলেছেন বিহার ক্যাডারের আইপিএস অফিসার মহিবুল্লা আনসারি।
মহিবুল্লা ২০২১ ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। বর্তমানে তিনি বিহারের মুজ়ফ্ফরপুরে সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ হিসাবে কর্মরত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি নথিতেও তাঁকে ২০২১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর আমেরিকার ফ্লরিডায় সপ্তম ‘ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’-এর অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘এশিয়ান হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেওয়ার কথা। ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফেস্ট’-এর তরফে এই সম্মান দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশি কাজ, জনসেবা এবং সমাজকল্যাণে অবদানের জন্য তাঁকে এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
তবে মহিবুল্লার সাফল্যের গল্পের শুরুটা মোটেই মসৃণ ছিল না। নিজের ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, স্কুলজীবনে পড়াশোনার তুলনায় সহপাঠক্রমিক কাজকর্মে তাঁর আগ্রহ বেশি ছিল। সেই কারণেই দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির প্রি-বোর্ড পরীক্ষায় ব্যর্থ হন তিনি।
এর পর অবশ্য ছবিটা বদলে যায়। পড়াশোনায় মন দিয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রস্তুতি নেন মহিবুল্লা। JEE Main এবং Advanced-এ সফল হয়ে ২০১১ সালে আইআইটি দিল্লিতে ভর্তি হন। সেখানে ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজও করেন তিনি। কিন্তু পরে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরু হয় ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি।
প্রথম দু’বার সাফল্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় প্রচেষ্টায় ২০২০ সালের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মহিবুল্লা। সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় তাঁর স্থান ছিল ৩৮১/৩৮৯—বিভিন্ন প্রতিবেদনে র্যাঙ্ক নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি ২০২১ ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইপিএস।
ব্যর্থতা থেকে আইআইটি, সেখান থেকে ইউপিএসসি এবং শেষে পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্ব—মহিবুল্লার এই যাত্রাই এখন তাঁকে আলোচনায় এনেছে। আর ডিসেম্বরের ফ্লরিডা অনুষ্ঠানে সেই পথচলার জন্যই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।