তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’!
‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস‘—শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে সাধারণ বাতের ছবি। কিন্তু বাস্তবটা আরও অনেক জটিল। চিকিৎসকদের মতে, এটি এক ধরনের অটোইমিউন ডিজিজ, যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের শরীরের দিকেই আক্রমণ চালাতে শুরু করে। এর ফলেই দেখা দেয় গাঁটের ব্যথা, ফোলা ও নড়াচড়ায় অসুবিধা। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে আজকাল ঘরে ঘরে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আশঙ্কার বিষয়, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ছে এই ব্যাধি।
কিন্তু কী ভাবে বুঝবেন, আপনিও কি আক্রান্ত হচ্ছেন এই জটিল রোগে? এবং যদি হয়েই যান, কী করণীয়? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে বিশদে আলোচনা করেছেন কলকাতার এইচপি ঘোষ হাসপাতালের সিনিয়র রিউমাটোলজিস্ট, চিকিৎসক অভ্রজিৎ রায়।
কোন কোন লক্ষণে বুঝবেন ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’?
চিকিৎসক অভ্রজিৎ রায় জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি। যেমন—
- সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, হাত বা পায়ের গাঁটে হঠাৎ করে ফোলা দেখা দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে।
- হাত মুঠো করতে ব্যথা বা সমস্যা হচ্ছে।
- পা মাটিতে রাখলেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন বা দাঁড়াতে সমস্যা হচ্ছে।
এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ কি সম্পূর্ণ সেরে যায়?
এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। বাত একবার হলে সাধারণত পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয় না। তবে, চিকিৎসকরা বলছেন, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু হয়, তবে রোগের গতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ফলে দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্বাভাবিকভাবেই কাটানো যায়।
চিকিৎসক অভ্রজিৎ রায়ের কথায়, রোগের শুরুতেই সচেতনতা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। অনেকে প্রথম দিকে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যান বা পাত্তা দেন না, ফলে রোগ গুরুতর আকার ধারণ করে। অথচ সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে জীবনযাত্রায় বড় কোনও বাধা আসে না।
কী করবেন?
- উপসর্গ দেখামাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- প্রয়োজনীয় রক্তপরীক্ষা ও অন্যান্য নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন এবং প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি করুন।
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন, স্ট্রেস কমান এবং ব্যায়াম করুন।
শেষ কথা
‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ এখন আর শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। তরুণরাও ঝুঁকির মধ্যে। তাই যদি হাতে-পায়ে অস্বাভাবিক ব্যথা, ফোলা বা নড়াচড়ায় সমস্যা অনুভব করেন, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ভয় নয়, সময়মতো সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসাই আপনাকে সুস্থ রাখবে।
বিএসএফ কর্তাদের আশ্বাসেও থেমে নেই উৎকণ্ঠা, সোমবার পঞ্জাব যাচ্ছেন পূর্ণমের স্ত্রী