অনুপস্থিত পঞ্চায়েত প্রধানদের কড়া বার্তা দিলীপের!
গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে পঞ্চায়েত প্রধানদের অনুপস্থিতির কারণে— এমন অভিযোগ তুলে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিয়মিত দফতরে যাচ্ছেন না। এর জেরে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই আটকে থাকছে, ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার এক অনুষ্ঠানে দিলীপ বলেন, “প্রায় দু’হাজার প্রধান অফিসে যাচ্ছেন না। কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। আমরা বলছি, হয় দায়িত্ব পালন করুন, না হলে পদত্যাগ করুন। এ ভাবে চলতে থাকলে ডিমের বদলে মানুষ তাঁদের বাড়িতে ঢিল মারবে।”
মন্ত্রী জানান, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পঞ্চায়েতের মাধ্যমেই হয়। প্রধানেরা নিয়মিত অফিসে না থাকলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিলম্ব হয়, ফাইলের অনুমোদন আটকে যায় এবং সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। সেই কারণেই দ্রুত কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
বর্তমানে রাজ্যের অধিকাংশ পঞ্চায়েতই তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বহু এলাকায় পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে গিয়েছে, অনেক জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব উন্নয়নমূলক কাজেও পড়ছে বলে প্রশাসনের দাবি।
যদিও দিলীপের অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির। দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধানেরা অফিসে যেতে চাইছেন। কিন্তু বিজেপি কর্মী এবং পুলিশ তাঁদের যেতে দিচ্ছে না। গেলেই মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশ পঞ্চায়েত অফিস ঘিরে রেখেছে, আর মন্ত্রী তা নিয়ে মন্তব্য করছেন।”
রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার অবশ্য সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান মন্ত্রী নিশ্চয়ই তথ্যের ভিত্তিতেই মন্তব্য করেছেন। তবে গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ ধারণা নেই বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে। গ্রেফতারের সময় বহু ক্ষেত্রেই জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কোথাও ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এসবই পরিকল্পিত ভাবে বিজেপি কর্মীরা ঘটাচ্ছেন। সেই প্রেক্ষিতেই দিলীপ ঘোষের “ডিমের বদলে ঢিল” মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?