“দুর্নীতিতে দোষী নন মমতা”, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে শোরগোল! শিব প্রকাশের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপির নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন

দুর্নীতিতে দোষী নন মমতা! রাজনীতির মঞ্চে আবারও চমক দিলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। তার…

July 9, 2025
1 min read

দুর্নীতিতে দোষী নন মমতা!

রাজনীতির মঞ্চে আবারও চমক দিলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। তার এই মন্তব্য ঘিরে স্বভাবতই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। আর এই মন্তব্যের সময়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ, দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির সংগঠনিক শীর্ষ নেতা শিব প্রকাশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই ঘটনার পর রাজ্য বিজেপি কার্যত নীরব, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।

মমতা নিয়ে কেন এমন মন্তব্য দিলীপের?

বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও মামলা নেই। এখন পর্যন্ত ওঁকে কোথাও দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।’’ এমনকি তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলিও কখনও মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলেনি। তাঁর দাবি, মমতা ‘রাজনৈতিকভাবে সফল নেত্রী’, এবং তার জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।

এই মন্তব্যের পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা দিলীপ ঘোষকে সাধুবাদ জানান। কিন্তু রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি। এমনকি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে প্রকাশ্যে কেউ খণ্ডনও করেননি।

শিব প্রকাশের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা?

দিলীপ ঘোষ গত সপ্তাহেই দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শিব প্রকাশের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, রাজ্য সংগঠনের বর্তমান অবস্থান, নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন এবং আসন্ন লোকসভা উপনির্বাচন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরে দিলীপের এই মন্তব্য সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে—এটি কি দিলীপের ব্যক্তিগত মত, না কি দলের অভ্যন্তরীণ কোনও বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি?

রাজ্য বিজেপির নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন

দিলীপ ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতার এমন বক্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব—সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা কেউই এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। এই নীরবতা ঘিরেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

একাংশের মতে, দিলীপ ঘোষ দলীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা অবস্থানে থাকলেও তাঁর কথার গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। আবার অন্য এক অংশ মনে করছেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়তো ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে তাকিয়ে কিছু বার্তা দিতে চাইছেন, যার মুখপাত্র হিসেবে দিলীপ ঘোষকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল কংগ্রেস দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে ব্যবহার করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করতে শুরু করেছে। দলটির মুখপাত্র বলেন, “এটাই প্রমাণ করে, এতদিন বিজেপি মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়েছে।” অন্যদিকে, কংগ্রেস ও বাম নেতারাও বিজেপির ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

উপসংহার

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য শুধুমাত্র একটি মতামত নয়—বরং রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং আগামী নির্বাচনে কৌশল বদলের ইঙ্গিতও হয়তো লুকিয়ে রয়েছে এই কথায়। এখন দেখার, রাজ্য নেতৃত্ব কীভাবে এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেয়—নীরবতা ভেঙে প্রতিক্রিয়া জানায়, না কি এই বক্তব্যকে দলের কৌশলের অংশ বলেই মেনে নেয়।

দলাই লামার জন্মদিনে মোদীর শুভেচ্ছায় ক্ষুব্ধ চিন! সরকারি প্রতিবাদ জানাল বেজিং, ভারতের পদক্ষেপে ‘হস্তক্ষেপ’ দেখছে চিনা প্রশাসন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *