আকস্মিক মৃত্যুর কারণ কী? রিঙ্কুর ছেলেকে নিয়ে ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত, শোকস্তব্ধ দিলীপ ঘোষ

রিঙ্কুর ছেলেকে নিয়ে ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত, শোকস্তব্ধ দিলীপ ঘোষ! নিউটাউনের সাপুরজি আবাসনের এক ফ্ল্যাট থেকে মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল বছর পঁচিশের তরুণ সৃঞ্জয় দাশগুপ্তর নিথর দেহ। আইটি কর্মী এই যুবককে…

May 14, 2025
1 min read

রিঙ্কুর ছেলেকে নিয়ে ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত, শোকস্তব্ধ দিলীপ ঘোষ!

নিউটাউনের সাপুরজি আবাসনের এক ফ্ল্যাট থেকে মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল বছর পঁচিশের তরুণ সৃঞ্জয় দাশগুপ্তর নিথর দেহ। আইটি কর্মী এই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। কেমন করে ঘটল এই অকালমৃত্যু? কেন এভাবে থেমে গেল একটি তরতাজা জীবনের পথচলা? মৃত্যুর ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই উঠে এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট।

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের প্রথম পক্ষের একমাত্র সন্তান ছিলেন সৃঞ্জয়। ছেলের এমন অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ রিঙ্কু ও দিলীপ। তাঁদের জীবনে এখন শুধুই শূন্যতা আর আক্ষেপ।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পরে প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সৃঞ্জয়ের হৃদ্‌যন্ত্র, লিভার ও কিডনির আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় ছিল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন রক্তচাপজনিত সমস্যা থাকলে এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তবে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে যেটা উঠে এসেছে, তা হল ‘অ্যাকিউট হেমোরেজিক প্যানক্রিয়াটাইটিস’, অর্থাৎ অগ্ন্যাশয়ে রক্তক্ষরণ এবং তীব্র প্রদাহ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতেই হয়তো মৃত্যু হয়েছিল সৃঞ্জয়ের। মঙ্গলবার সকালে দেহ উদ্ধার হলেও, তখন পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছিল। সব কিছু বিচার করে চিকিৎসকেরা মনে করছেন, এই প্রদাহ ও রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে রিপোর্টে আত্মহত্যা কিংবা খুনের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ‘ফাউল প্লে’-এর সম্ভাবনা এই মুহূর্তে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা, তবে প্রাথমিক ভাবে তার উল্লেখ নেই।

সৃঞ্জয়ের মৃত্যুর পর নিমতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রিঙ্কু। পাশে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মায়ের সব কিছু ছিল ছেলে। অনেক কষ্ট করে ওকে মানুষ করেছে। পড়াশোনায় ভাল, দেখতে ভাল, ব্যবহার ভাল। কল্পনাই করিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। পুত্রসুখ হয়নি, পুত্রশোক হল।”

রিঙ্কুও জানান, তাঁর বিয়ের পরে সৃঞ্জয় কিছুটা গুটিয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করতেন না, ওষুধপত্রও সময়মতো নিতেন না। তাঁর দীর্ঘদিনের স্নায়বিক সমস্যাও ছিল। মায়ের বিয়ের ২৫ দিনের মাথায় এমন মৃত্যু রিঙ্কুর জীবনে চিরস্থায়ী দাগ রেখে গেল।

এক মর্মান্তিক অধ্যায়ের শুরু হল দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু মজুমদারের সংসারে। পরিবারের দাবি, সৃঞ্জয়ের মৃত্যুর পিছনে কোনও মানসিক চাপ বা বিরূপ সম্পর্কের প্রভাব নেই। তবে কেন এমন হল, তা নিয়ে আরও বিশদে জানতে হবে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও ফরেন্সিক বিশ্লেষণের অপেক্ষায়।

এ মুহূর্তে শুধু একটা কথাই বলার—যে ছেলেটা সবার এতটা প্রিয় ছিল, তার এমন চলে যাওয়া যেন কাউকে মেনে নেওয়া কঠিন।

ফের জৈসলমের! নতুন রহস্যের পর্দা ফাঁস করতে যাচ্ছেন সব্যসাচী, সঙ্গী মেঘলা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *