দিলীপ ঘোষের রাজনীতিতে নতুন মোড়?
দু’টি সময়, দু’টি স্থান, আর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ নেতা— কুড়ি বছর আগে করাচিতে লালকৃষ্ণ আডবাণী পাকিস্তানের মহম্মদ আলি জিন্নার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করতেন। তিনি ছিলেন ভারতের রাজনীতির এক সময়ের শক্তিশালী নায়ক, কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবন এক নতুন দিক পেয়েছিল। আজকের দিনে যখন বিজেপির রাজ্য স্তরের এক প্রভাবশালী নেতা দিলীপ ঘোষ, দিঘায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এমন প্রশংসাসূচক কথা বলছেন, তখন অনেকেই ভাবছেন— এর মধ্যে কি ভবিষ্যতের কোনও বড় ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে?
লালকৃষ্ণ আডবাণীর ঐ ঘটনা ছিল বিতর্কিত, কারণ তিনি পাকিস্তানের মাটিতে জিন্নার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক দল ও স্বয়ং দলের কট্টরপন্থী বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে পড়েছিলেন। এর ফলস্বরূপ, তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে যান। আজ সেই ‘বানপ্রস্থ’ ধাপে পৌঁছেছেন আডবাণী।
আর এখন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এক ধ্রুবতারকা দিলীপ ঘোষ। তিনি অনেকদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। নির্বাচনে সফলতা, জনসমর্থন— সবকিছুতেই তেমন ছাপ রেখেছেন। কিন্তু দিঘা মন্দির উদ্বোধনের পর তাঁর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা এবং এরপর থেকে নিস্তব্ধতা— এ যেন প্রশ্নবোধক।
দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতাদের নীরবতা, তাঁর কর্মসূচিতে দলের পক্ষ থেকে ডাক না আসা, আর সামাজিক মাধ্যমে কিছু কর্মী-সমর্থকদের বেসামাল আক্রমণ কিছুটা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, হয়তো রাজ্যের স্তরে বিজেপির নেতৃত্ব তাঁর জায়গা নিয়ে নতুন ভাবনা ভাবছে। যদিও কেউ সোজাসাপটা কথা বলছে না, তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে— দিলীপ কি ‘বানপ্রস্থের পথে’? অর্থাৎ দলের বাইরে বা সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হবে?
দিলীপ নিজেও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে তাঁকে নতুন কোনও বড় কাজ দেওয়া হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, দিলীপের সঙ্গে কিছু দূরত্ব তৈরি হচ্ছে সচেতনভাবেই, যাতে দলের নতুন নেতৃত্ব ঘনিষ্ঠভাবে রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এর পেছনে কী কারণ? অনেক বিশ্লেষক বলছেন, দিলীপের ‘স্ট্রংম্যান’ ইমেজ ও বীরত্বপূর্ণ রাজনীতির ছাপ অনেক সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণ হয়। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য হয়তো দলের উচ্চস্তরের পরিকল্পনা বদলানো হচ্ছে।
দলীয় নেতারা অবশ্য এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। সৌমিত্র খাঁ বা অর্জুন সিংহের মতন যারা আগে দিলীপ সম্পর্কে তীব্র মন্তব্য করতেন, তারা হঠাৎ বিরতিতে রয়েছেন। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ আক্রমণও কমে গেছে।
বলা হয়ে থাকে, রাজনীতি কখনো ব্যক্তিগত না, এটা দলের স্ট্রাটেজি ও পরিস্থিতির ভিত্তিতেই চলে। তাই দিলীপ ঘোষের এই নিস্তব্ধতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরত্ব, আসলে ভবিষ্যতের রাজনীতির বড় এক ইঙ্গিত হতে পারে। তবে সবকিছুই এখনো অনিশ্চিত। যেমন দিলীপ নিজেও বলেছেন— ভবিষ্যৎ কে জানে?
রাজ্য বিজেপির একাংশ মনে করছে, দিলীপ ঘোষ যদি এমনভাবে দলের বাইরে চলে যান, তাহলে বাংলায় বিজেপির রাজনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে। অন্যদিকে, কেউ বলছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আনা জরুরি, তবেই দল সাফল্য পাবে।
কন্যাকে বিশেষ কারণে কান-এ নিয়ে যান ঐশ্বর্যা! বিদেশি উৎসবে আরাধ্যার প্রিয় মুহূর্ত কী?