তেষ্টা পেলেই বরফ চিবোতেন বিজয়!
এক জন অভিনেতাকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু অভিনয় জানলেই হয় না। অনেক সময় চরিত্রের জন্য বদলে ফেলতে হয় শরীর, খাদ্যাভ্যাস, এমনকি দৈনন্দিন জীবনযাপনও। দক্ষিণী অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডার ‘লিগার’-এর প্রস্তুতিও ছিল তেমনই কঠিন। চরিত্রের চেহারা ফুটিয়ে তুলতে এমন ভাবে জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়েছিলেন যে তেষ্টা মেটাতে শেষ পর্যন্ত বরফের টুকরো মুখে রাখতে হত তাঁকে।
২০২২ সালের ‘লিগার’-এ এমএমএ যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিজয়। ছবিটি দিয়েই হিন্দি সিনেমায় তাঁর অভিষেক। পেশিবহুল অথচ ছিপছিপে চেহারায় পর্দায় নিজেকে তুলে ধরতে কঠোর শরীরচর্চার পাশাপাশি বদলাতে হয়েছিল তাঁর খাদ্যাভ্যাসও।
বিজয় জানিয়েছেন, সাধারণত দিনে চার থেকে ছয় লিটার জল পান করতেন তিনি। কিন্তু ‘লিগার’-এর শুটিংয়ের সময় সেই পরিমাণ ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছিল। প্রথমে ৩০০ মিলিলিটারে, পরে তা নেমে যায় মাত্র ১০০ মিলিলিটারে। এমনকি শুটিং শুরুর আগে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা জল না খেয়েও থাকতে হত তাঁকে।
তেষ্টার পরিস্থিতি সামলাতে কী করতেন অভিনেতা? বিজয়ের কথায়, অনেক সময় বরফের টুকরো মুখে রেখে তেষ্টা সামলাতে হত। তবে এই পদ্ধতি যে মোটেই সহজ বা স্বাস্থ্যকর নয়, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
শুটিং চলাকালীন তাঁর মাথায় ঘুরত একটাই কথা—কখন কাজ শেষ হবে এবং কখন জল খেতে পারবেন। প্রায় চার ঘণ্টার শুটিং শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। এমনকি আড়াই ঘণ্টা পার হলেই টিমকে কাজ শেষ করার কথা বলতে শুরু করতেন।
শুটিং শেষ হওয়ার পর অবশ্য তাঁর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকত নারকেলের জল। বিজয়ের দাবি, কাজ শেষ হলেই প্রায় চার লিটার নারকেলের জল খেতেন তিনি। অর্থাৎ শুটিংয়ের সময় শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি করে যে চেহারা পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করতেন।
এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বিজয় বুঝিয়েছেন, চরিত্রের জন্য শরীর বদলানো বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় মনে হয়, বাস্তবে তার পিছনে ততটাই কঠিন পরিশ্রম থাকে। ‘লিগার’-এর জন্য তাঁর সেই প্রস্তুতি তাই শুধু শরীরচর্চার গল্প নয়, বরং চরিত্রকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য অভিনেতার কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণেরও উদাহরণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।