ডিপফেক কাণ্ডে ক্ষুব্ধ ঐশ্বর্যা-অভিষেক!
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা জুটি ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক অভূতপূর্ব কারণে। তাঁদের মুখ ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তৈরি হওয়া অশালীন ও বিভ্রান্তিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিয়ো ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজমাধ্যমে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ভিডিয়োগুলি তাঁদের সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় মারাত্মক হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারকাদম্পতি।
শুধু আর্জি জানিয়েই ক্ষান্ত হননি তাঁরা, এবার সরাসরি ইউটিউব এবং গুগলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই মামলায় অভিষেক ও ঐশ্বর্যা প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের পক্ষ থেকে শতাধিক লিঙ্ক ও স্ক্রিনশট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তাঁদের নাম, মুখ বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তৈরি “অশালীন”, “যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ” এবং “সম্পূর্ণ ভুয়ো” ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে।
দম্পতির অভিযোগ, ইউটিউবের কনটেন্ট নীতি ও তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউটিউবের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা নিজেদের তৈরি ভিডিয়োর মাধ্যমে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এর ফলেই এমন সব বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর ডিপফেক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে, যা তারকাদের ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত জীবনে সরাসরি আঘাত করছে।
এই বিষয়ে অভিষেক ও ঐশ্বর্যা গত ৬ সেপ্টেম্বর পৃথক হলেও প্রায় অভিন্ন দুটি মামলা দায়ের করেছেন। যদিও মামলার বিস্তারিত নথি এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি, আইনজীবীদের মতে, এটি ভারতের বিনোদন দুনিয়ায় ডিপফেক সম্পর্কিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা হতে চলেছে।
এর আগে ব্যক্তিগত অধিকার ও গোপনীয়তা রক্ষার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক ও ঐশ্বর্যা। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তাঁদের মুখ এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়ো ও অশালীন ভিডিয়ো ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়নি, বরং তাঁদের পরিবারের প্রতিও সামাজিকভাবে চাপ তৈরি হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ঘটনা ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু তারকাদের নয়, সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় হুমকি তৈরি করছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। দিল্লি হাই কোর্ট গুগলের আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছে, তার আগেই লিখিত জবাব জমা দিতে হবে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর দেশের বিনোদন ও প্রযুক্তি জগতে।
ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ঐশ্বর্যা ও অভিষেকের এই লড়াই শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং ভবিষ্যতে ডিজিটাল জগতে ব্যক্তিগত তথ্য ও চেহারার সুরক্ষা নিয়েও এক গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। তাঁদের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে বলিউডসহ গোটা সমাজে ডিপফেকের বিরুদ্ধে সচেতনতার নতুন অধ্যায় খুলে দিতে চলেছে।