চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান অভিষেক!
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন আপাতত খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেকের পক্ষে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, মামলাটি নির্ধারিত নিয়ম মেনেই শুনানির তালিকায় আসবে। এখনই বিশেষ বা জরুরি শুনানির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেননি।
এর আগের দিন, মঙ্গলবারও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিষেক চোখের চিকিৎসার জন্য সাত দিনের বিদেশ সফরের অনুমতি চাইছেন। সেই কারণেই দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছিল।
অভিষেকের বিদেশযাত্রায় সাধারণভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে তাঁর নাম একাধিক বিচারাধীন মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তদন্তকারী সংস্থার কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করার নির্দেশ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়াকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশ সফরের আবেদন নতুন নয়। কারণ, প্রায় এক দশক আগে এক গুরুতর দুর্ঘটনায় চোখে আঘাত পেয়েছিলেন অভিষেক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদে একটি দলীয় কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ফেরার পথে তাঁর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেই ঘটনায় চোখের নীচে গুরুতর চোট লাগে।
দুর্ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই পুরনো সমস্যারই ফলো-আপ চিকিৎসা বা পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিষেকের তরফে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
হাই কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত তাঁকে নিয়মিত শুনানির তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আদালত যখন মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করবে, তখনই বিদেশ সফরের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা থাকলেও, আদালতের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত সেই সফর অনিশ্চিতই রয়ে গেল। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?