অন্ধকার পেরিয়ে আলোর সন্ধান!
জীবনের হতাশা, দুঃখ-কষ্ট আর অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে চলার বার্তা দিচ্ছে রাজডাঙা নবউদয় সঙ্ঘের দুর্গাপুজো। এ বার তাদের থিম ‘শোধন’। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার মাধ্যমে মানুষের অন্তরের অন্ধকার থেকে মুক্তি এবং আলোর সন্ধান পাওয়ার ভাবনাকে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
কলকাতার থিমপুজোর মানচিত্রে রাজডাঙা নবউদয় সঙ্ঘ পরিচিত নাম। প্রতি বছরই মণ্ডপসজ্জায় নতুন ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করে এই পুজো কমিটি। এ বারও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘শোধন’ থিমের মধ্য দিয়ে জীবনের নানা প্রতিকূলতা, হতাশা এবং অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন আশার দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প শোনাতে চাইছেন তাঁরা। মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা, বিশ্বাস এবং আলোর প্রতি আকাঙ্ক্ষাই এ বারের ভাবনার কেন্দ্রে।
মণ্ডপটির পরিকল্পনা ও সৃজনের দায়িত্বে রয়েছেন খ্যাতনামী শিল্পী দেবাশিস বারুই। উদ্যোক্তাদের দাবি, তাঁর নিখুঁত পরিকল্পনা ও শৈল্পিক উপস্থাপনায় মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা আলো-অন্ধকারের এক অন্য রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন। শুধু মণ্ডপসজ্জা নয়, প্রতিমার উপস্থাপনাতেও থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
আলো ও ছায়ার ব্যবহার এ বারের মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। দেবীমূর্তিকে ঘিরে বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রয়োগও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পী। সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে এমন একটি পরিবেশ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শুধু চোখে দেখার নয়, ভাবনারও খোরাক জোগাবে।
শিল্পী দেবাশিস বারুইয়ের কথায়, ‘‘এই পুজো দেখতে হলে একটু হাতে সময় নিয়ে আসাই ভাল। কারণ আলো-আঁধারের ব্যবহার এবং দেবীমূর্তিকে ঘিরে এক অদ্ভুত যান্ত্রিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা অবশ্যই আগত সাধারণ মানুষের ভাল লাগবে।’’
উৎসবের ভিড়ে তাড়াহুড়ো করে মণ্ডপ ঘুরে দেখার বদলে সময় নিয়ে প্রতিটি আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন শিল্পী। উদ্যোক্তাদের আশা, ‘শোধন’-এর ভাবনা দর্শনার্থীদের মনে নতুন উপলব্ধি তৈরি করবে। অন্ধকারের পর আলো আসে— জীবনের এই চিরন্তন বার্তাকেই শিল্পের ভাষায় তুলে ধরতে চাইছে রাজডাঙা নবউদয় সঙ্ঘ।
এ বারের পুজোয় তাই মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি আলো-অন্ধকারের বিন্যাস, প্রতিমার উপস্থাপনা এবং তার আড়ালে থাকা ভাবনাকে বুঝে নেওয়ার সুযোগও থাকছে দর্শনার্থীদের সামনে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।