আসনে গেলেন না অভিষেক??
মাত্র ৩৬ দিনের ঝড়ো প্রচারে ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে ফেললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ— গোটা রাজ্য চষে বেড়িয়েছেন তিনি। তবে এই ব্যস্ত সূচির মধ্যেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তাঁর প্রচারসূচির বাইরে থেকে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
২৩ মার্চ প্রচার শুরু করে ২৭ এপ্রিল শেষ করেন অভিষেক। এত কম সময়ে এত বিস্তৃত প্রচার নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। কিন্তু তালিকা খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীর বিধানসভায় তিনি যাননি। যেমন ফিরহাদ হাকিমের কলকাতা বন্দর, অরূপ বিশ্বাসের টালিগঞ্জ, অরূপ রায়ের মধ্য হাওড়া বা ব্রাত্য বসুর দমদম— সবই তাঁর ‘মিস’ করা কেন্দ্রের তালিকায়।
এই অনুপস্থিতি কি কেবল সময়ের অভাব, না কি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল? তৃণমূলের অন্দরে অনেকে মনে করছেন, বিষয়টি এত সরল নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও দেখা গিয়েছিল, কিছু প্রবীণ নেতার কেন্দ্রে যাননি অভিষেক। তখন থেকেই ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ বিতর্ক সামনে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের সিদ্ধান্তগুলিও অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে ছবিটা একপাক্ষিক নয়। অভিষেক যেখানে যাননি, সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রচার করেছেন দলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার এমনও কিছু কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে দু’জনের কেউই যাননি। ফলে শুধু ‘অভিষেকের অনুপস্থিতি’ দিয়েই পুরো ছবিটা ব্যাখ্যা করা কঠিন।
তৃণমূলের অন্দরমহলের একাংশের দাবি, এই প্রচারসূচির মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলগত জায়গাগুলিতে জোর দেওয়া। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে অভিষেকের উপস্থিতি ছিল বেশি। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের সেই সব কেন্দ্রেও তিনি গিয়েছেন, যেখানে বিজেপি গত লোকসভা নির্বাচনে শক্তি বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, সরাসরি লড়াইয়ের ময়দানেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি এই বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের দাবি, এটি ‘নতুন তৃণমূল’-এর ইঙ্গিত। ভোটের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও কটাক্ষ করেছে তারা।
তবে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, ২৯৪টি কেন্দ্রের সবকটিতে একজন নেতার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পনা করেই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্বাচনী সফর যেমন ব্যাপ্তির দিক থেকে নজরকাড়া, তেমনই তাঁর ‘না-যাওয়া’ কেন্দ্রগুলিও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কৌশল ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?