ট্রাম্পের বিস্ময় ও হুঁশিয়ারি!
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ফের ভারতকে নিশানা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ভারত একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করে, আবার অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকেও তেল ও অস্ত্র কিনছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপানোর হুমকি দেন তিনি। এর জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
নয়াদিল্লি এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যুত্তর দেয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতকে নিশানা করছে, অথচ নিজেরা রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য, বিশেষ করে পারমাণবিক জ্বালানি এবং সার কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, আমেরিকা এখনও রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, রাসায়নিক সার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমদানি করে। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরও এই বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে।
এই পাল্টা দাবির পরেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পকে প্রশ্ন করে বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু চমকপ্রদভাবে ট্রাম্প জানান, তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না! তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। বিষয়টা খতিয়ে দেখতে হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে অনেকেই বিস্মিত, কারণ বিষয়টি কেবল বাণিজ্যসংক্রান্ত নয়, এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সমস্ত ঘটনার মধ্যে আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তিনি বলেন, “রাশিয়া থেকে তেল এবং অস্ত্র কেনায় ভারতকে শাস্তি পেতে হবে।” যদিও ‘শাস্তির’ অঙ্ক বা পরিমাণ তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এই অবস্থায় ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কেউ কেউ বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাবে। এমনকি অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘শুল্ক-যুদ্ধ’ কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
সোমবার ও মঙ্গলবার, টানা দুই দিন ধরে ট্রাম্প ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারত ‘ভাল বাণিজ্যিক বন্ধু নয়’। তাঁর বক্তব্য, “ওরা আমাদের কাছ থেকে প্রচুর সুবিধা নেয়, অথচ আমরা ওদের থেকে তেমন কিছু পাই না।” সেই কারণেই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের উপর আরও শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে ঠিক কত শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এই অবস্থায় নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে। তবে একথা স্পষ্ট, তেল ও অস্ত্র কেনাবেচাকে ঘিরে ভারতের উপর মার্কিন চাপ বাড়ছে, এবং সেই চাপ সামলাতে নয়াদিল্লিও জবাব দিতে পিছপা হচ্ছে না।
দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র