ট্রাম্পের হুমকিতে সাময়িক অচলাবস্থা, তবু ভাঙেনি আলোচনা!
সুইৎজ়ারল্যান্ডে চলা আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা নাটকীয় মোড় নিলেও এখনও ভেস্তে যায়নি। রবিবার প্রায় ৮০ মিনিটের বৈঠকের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কড়া মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi এবং পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf-সহ ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সোমবার ফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা।
রবিবারের বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে?
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল:
- Strait of Hormuz বা হরমুজ় প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া
- Lebanon-এ চলমান অস্থিরতা
- Hezbollah ও Israel-এর সংঘর্ষ
- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি
- সম্প্রতি ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) ১৪ দফা বাস্তবায়ন
সূত্রের খবর, আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।
কেন বৈঠক থেকে বেরিয়ে গেল ইরান?
বৈঠক চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ইরানি প্রতিনিধিদল প্রতিবাদস্বরূপ বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
পরে গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে নিজেদের বক্তব্যের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
হরমুজ় নিয়ে কোথায় জট?
প্রাথমিক পর্যায়ে দুই দেশই হরমুজ় প্রণালী আংশিক বা সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ছিল। কিন্তু লেবাননে হিজ়বুল্লা ও ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ইরানের বক্তব্য, তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির উপর হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ় প্রশ্নে চূড়ান্ত ছাড় দেওয়া কঠিন।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ খোলা বা বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার কী হতে পারে?
সোমবারের বৈঠকে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে:
- হরমুজ় প্রণালী খোলার রূপরেখা।
- ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা।
- লেবানন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
- পূর্বস্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা বাস্তবায়নের সময়সীমা।
- ভবিষ্যৎ সামরিক উত্তেজনা কমানোর জন্য পারস্পরিক নিশ্চয়তা।
মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্য দিকে, ইরান এখনও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে সোমবারের বৈঠকই নির্ধারণ করতে পারে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তব সমঝোতার দিকে এগোবে, নাকি আবারও অচলাবস্থার মুখে পড়বে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?