ট্রাম্পের প্রভাবে ভারতে কি ফিরছে টিকটক?
টিকটক—বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ—ভারতে ২০২০ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল দেশের নিরাপত্তা ও তথ্য গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে। চিনা সংস্থা ‘বাইটড্যান্স’-এর মালিকানাধীন এই অ্যাপ একসময় লাখো ভারতীয় তরুণ-তরুণীর বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সংঘাতের পর তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯-এ ধারার অধীনে কেন্দ্র সরকার একসঙ্গে ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেয়। সরকারের দাবি ছিল, এই অ্যাপগুলি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে হঠাৎই অচল হয়ে পড়ে বহু জনপ্রিয় টিকটকারের ক্যারিয়ার।
সম্প্রতি আবারও টিকটকের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে দাবি করেছেন, তাঁরা ভিপিএন ব্যবহার ছাড়াই টিকটকের হোমপেজ খুলতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়া আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন সফরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর গুজব আরও জোরদার হয়। অনেকেই মনে করেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির সঙ্গে টিকটকের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই উঠে যেতে পারে।
তবে সরকারি সূত্র এই জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের তরফে টিকটক নিষেধাজ্ঞা তোলার কোনও পরিকল্পনা নেই। একইভাবে, বাইটড্যান্সও একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা ভারতে পরিষেবা পুনরায় চালুর জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিপিএন ছাড়া কিছু ব্যবহারকারীর টিকটকের হোমপেজে প্রবেশের ঘটনা শুধুই প্রযুক্তিগত ত্রুটি। এই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেয় না।
বর্তমানে অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর—কোনও জায়গাতেই ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ নয়। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা তাদের কাছে অগ্রাধিকার, তাই এই মুহূর্তে টিকটকের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সুতরাং, যতই আলোচনা বা জল্পনা হোক না কেন, টিকটকপ্রেমী ভারতীয়দের আপাতত নতুন কোনও “গুড নিউজ”-এর অপেক্ষায় থাকতে হবে।
দক্ষিণী স্বাদের অনন্য ভর্তা: এল্লু থুভৈয়াল, গরম ভাতে ঘি মেখে খেতে একেবারে স্বর্গীয়