ট্রাম্পের জয়
এক দিনের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবন উলটপালট হয়ে গিয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি অনেকটাই কমেছিল, তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তা এক নিমিষে বদলে যায়। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর তাঁর গুরুত্ব কমেছিল, কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত পাল্টে যায়।
বুধবার, ভোটের প্রাথমিক প্রবণতায় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রাম্প বিজয়ের ভাষণ দেন, যেখানে তিনি তাঁর প্রাক্তন স্লোগান “আমেরিকা আবার শ্রেষ্ঠ হবে” পুনরাবৃত্তি করেন। এর পরে, টেলিভিশন বা গণমাধ্যমে তাঁর কোনো উপস্থিতি ছিল না। বরং, তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের ফোন ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার, এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁসহ অনেক রাষ্ট্রপ্রধান তাঁকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেন।
এপি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, জয় পাওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম কয়েক ঘণ্টা ছিল একধরনের ক্লান্তির মধ্যে। বিজয়-ভাষণ শেষ হওয়ার পর তাঁর দিন চলে যায় সমর্থক, অনুদানদাতা, এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসনও দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে থাকে। বাইডেনের টিম হুঁশিয়ারি দেয় যে, ক্ষমতা হস্তান্তর সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর না করলে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে অসুবিধে হতে পারে।
ট্রাম্প এবং বাইডেনের ফোনালাপে বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস দুজনেই ট্রাম্পকে সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বাস দেন যে, ক্ষমতা হস্তান্তর সুসম্পন্ন হবে। ট্রাম্প, সেসময়ে, কমলার পেশাদারিত্ব এবং ধৈর্য্যের প্রশংসা করেন, এবং তাঁরা একত্রে দেশের ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
এই প্রথম, টানটান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শত্রুতা সত্ত্বেও, দুটি পক্ষ একসঙ্গে দেশের শৃঙ্খলা এবং গণতন্ত্রের জন্য একযোগে কাজ করার আশ্বাস দেন। ট্রাম্পের জয়, এবং তার পরবর্তী সময়ের এই ক্লান্তি, আর্থিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার নেতৃত্বের নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে।