গ্লকোমা: নিঃশব্দে দৃষ্টিহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে কোটি কোটি মানুষকে!

গ্লকোমা! প্রথমে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসবে, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকবে। তারপর একদিন সব অন্ধকার! গ্লকোমা—এক নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছে কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে…

March 20, 2025
1 min read

গ্লকোমা!

প্রথমে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসবে, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকবে। তারপর একদিন সব অন্ধকার! গ্লকোমা—এক নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছে কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে গ্লকোমা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই এক কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

গ্লকোমা কী এবং কেন এটি ভয়াবহ?

চোখের ভেতরে তরল প্রবাহের স্বাভাবিক পথ যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন চাপ সৃষ্টি হয় অপটিক নার্ভে। এই চাপ বাড়তে থাকলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে মানুষ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—গ্লকোমায় হারানো দৃষ্টি আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায় না!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি মানুষ গ্লকোমার শিকার। ভারতে চল্লিশোর্ধ্বদের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। কর্মক্ষম মানুষ অন্ধত্বের কবলে পড়ায় বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারাচ্ছে।

গ্লকোমার লক্ষণ কী?

গ্লকোমা খুবই ছদ্মবেশী রোগ। প্রাথমিক অবস্থায় এটি ধরা পড়ে না। সাধারণত,
✅ পাশের দিকের দৃষ্টিশক্তি (Peripheral Vision) কমতে থাকে।
✅ সম্ভবত চোখের সামনের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেলেও পাশে দেখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
✅ অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা চোখের সামনে অন্ধকার ঝাপটা দেখা যায়।

এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?

🔹 যাদের পরিবারে গ্লকোমার ইতিহাস আছে।
🔹 ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা।
🔹 মায়োপিয়া বা কর্নিয়ার অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন ব্যক্তিরা।
🔹 যারা লম্বা সময় ধরে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
🔹 অন্ধকার ঘরে মোবাইল ব্যবহার বা দীর্ঘদিন স্টেরয়েডযুক্ত ওষুধ বা ইনহেলার ব্যবহার করা ব্যক্তিরাও গ্লকোমার ঝুঁকিতে থাকেন।

গ্লকোমা প্রতিরোধের উপায়

✅ নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করুন: বয়স ৪০ পার হলে বছরে অন্তত দুইবার চক্ষু পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়।
✅ স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন: দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে চোখ বিশ্রাম দিন।
✅ পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করুন: অন্ধকার ঘরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
✅ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: সুস্থ খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা গ্লকোমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
✅ যদি গ্লকোমার পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তবে আগে থেকেই সতর্ক থাকুন।

চোখ আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ!

গ্লকোমা একবার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলে আর ফেরানো সম্ভব নয়। তাই সময় থাকতেই সচেতন হন, চোখের যত্ন নিন, নিয়মিত পরীক্ষা করান। কারণ, অন্ধকার নেমে আসার আগে সাবধান হওয়াই শ্রেয়!

রাজনীতি, খেলা ও আবহাওয়া: আজকের আলোচিত খবর

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *