খার্গ আইল্যান্ডে হামলা, তেলের বাজারে নতুন দুশ্চিন্তা— হরমুজ় ঘিরে চাপ বাড়াল ট্রাম্প

তেলের বাজারে নতুন দুশ্চিন্তা! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল ইরানের খার্গ আইল্যান্ডে মার্কিন হামলার খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর নির্দেশে খার্গ আইল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে…

March 14, 2026
1 min read

তেলের বাজারে নতুন দুশ্চিন্তা!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল ইরানের খার্গ আইল্যান্ডে মার্কিন হামলার খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর নির্দেশে খার্গ আইল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে বড়সড় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে। তবে আপাতত দ্বীপের তেল পরিকাঠামোয় আঘাত করা হয়নি। সেই সঙ্গেই ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তা হলে খার্গের তেল ঘাঁটিও নিশানায় আসতে পারে।

খার্গ আইল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে গেলে ইরানের তেল ব্যবসার ছবি দেখতে হবে। এই দ্বীপই ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র। রয়টার্স জানাচ্ছে, ইরান থেকে বাইরে যে তেল রফতানি হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই খার্গ আইল্যান্ড ঘিরে থাকা টার্মিনাল থেকে যায়। ফলে এখানে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হলে শুধু ইরান নয়, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

অবস্থানগত দিক থেকেও খার্গ আইল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২৫-২৬ কিলোমিটার দূরে এবং হরমুজ় প্রণালী থেকে প্রায় ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অর্থাৎ, হরমুজ়ের মুখে নয়, কিন্তু সেই বৃহত্তর তেলপথের এক কৌশলগত অংশে বসে রয়েছে দ্বীপটি। তাই এখানে হামলা মানে শুধু সামরিক বার্তা নয়, জ্বালানি বাণিজ্যকেও সরাসরি চাপের মুখে ফেলা।

ট্রাম্পের বার্তায় আর একটি বিষয় স্পষ্ট— হরমুজ় প্রণালী এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিরও স্নায়ুকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তিনি বলেছেন, জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত হলে আমেরিকা আর সংযম দেখাবে না। এই মন্তব্যের ফলে হরমুজ়ে আটকে থাকা বা ধীরগতিতে চলা বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, ওই জলপথ দিয়ে তেল ও গ্যাসের বিশাল অংশ বিশ্ববাজারে পৌঁছয়। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল আরও নড়বড়ে হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত তেহরানের পূর্ণ প্রতিক্রিয়া সামনে না এলেও, খার্গে হামলা যে সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, তেল পরিকাঠামো অক্ষত থাকলেও সেটি এখন কার্যত সরাসরি হুমকির মুখে। আর সেই হুমকির অভিঘাত শুধু ইরান বা আমেরিকায় আটকে থাকবে না— তার রেশ পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজার, জাহাজ চলাচল, এমনকি ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতেও।

সব মিলিয়ে, খার্গ আইল্যান্ডে এই হামলা শুধু একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়; এটি তেল, বাণিজ্য এবং কূটনীতিকে একই সঙ্গে নাড়িয়ে দেওয়া এক বড় বার্তা। আর হরমুজ়কে ঘিরে অনিশ্চয়তা যত বাড়বে, বিশ্ববাজারের অস্বস্তিও ততই গভীর হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *