তেলের দামে আগুন, ইতিহাস কি ফিরছে?
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—এই পরিস্থিতি কি আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ১৯৭৩ সালের ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটের দিকে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি কিছু ক্ষেত্রে তখনকার চেয়েও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
১৯৭৩ সালে Yom Kippur War চলাকালীন বিশ্ব প্রথম বড় আকারে ‘অয়েল শক’-এর মুখোমুখি হয়। সেই সময় Egypt ও Syria মিলে Israel-এর উপর হামলা চালায়। যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে United States এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি, যারা ইজ়রায়েলের পাশে দাঁড়ায়।
এই অবস্থায় আরব তেল উৎপাদক দেশগুলি, বিশেষ করে OPEC-এর সদস্যরা, তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমেরিকা ও ইউরোপের উপর তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ৩০০-৪০০ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত টালমাটাল হয়ে পড়ে—মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, শিল্প উৎপাদন কমে যায়, আর বহু দেশে জ্বালানি রেশনিং চালু হয়।
তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট Richard Nixon পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। ইউরোপেও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। অর্থনীতির গতি হঠাৎ করেই থমকে যায়।
এখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের মিল যেমন আছে, তেমনই বড় পার্থক্যও রয়েছে। বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা অনেক বেশি বিস্তৃত এবং জটিল। বিশেষ করে Strait of Hormuz অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা International Energy Agency-র মতে, ১৯৭০-এর দশকে যেখানে দৈনিক ৪০-৫০ লক্ষ ব্যারেল তেলের ঘাটতি হয়েছিল, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় দু’কোটি ব্যারেলে পৌঁছেছে। ফলে পরিস্থিতির গভীরতা সহজেই আন্দাজ করা যায়।
আরও উদ্বেগের বিষয়, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি অনেক বেশি পরস্পর নির্ভরশীল। বিশ্বায়নের যুগে তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে শেয়ার বাজার, শিল্প, এমনকি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। তেলের উপর নির্ভর করে শুধু জ্বালানি নয়, অসংখ্য পণ্য উৎপাদনও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৩ সালে তেলের দাম বৃদ্ধি ছিল অনেকটাই রাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সরাসরি যুদ্ধের প্রভাবে। ফলে নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন।
তবে কিছুটা স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। ভারত এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, কারণ তারা বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করছে। তবুও বিশ্ববাজারের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—ইতিহাস কি আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে চলেছে? নাকি এই সঙ্কট আরও গভীর আকার নেবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না