তরল সোনা থেকে ভবিষ্যতের তেলের ভাণ্ডার!
উপকূলের নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল তেলের ভাণ্ডার— যাকে অনেকেই বলেন ‘তরল সোনা’। এমন সম্পদ হাতে পেলে অনেক দেশই হঠাৎ অর্থনৈতিক উল্লম্ফনে দিশেহারা হয়ে পড়ে। কিন্তু উত্তর ইউরোপের ছোট্ট দেশ Norway ঠিক উল্টো পথ বেছে নেয়। তারা তেলের অর্থ সরাসরি খরচ না করে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলে এক বিশাল তহবিল— যা আজ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সার্বভৌম সম্পদভাণ্ডারগুলির একটি।
তেলের আবিষ্কার, কিন্তু সতর্ক পদক্ষেপ
১৯৬৯ সালে উত্তর সাগরে তেলের খোঁজ মেলে। এর ফলে রাতারাতি বদলে যেতে পারত দেশের অর্থনীতি। কিন্তু নরওয়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তখনই বুঝেছিল— তেল চিরস্থায়ী নয়। একদিন ভাণ্ডার ফুরোলে অর্থনীতি বিপদে পড়তে পারে।
এই দূরদর্শিতা থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— তেলের আয়ের বড় অংশ জমা রাখা হবে একটি বিশেষ তহবিলে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার সুফল পায়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেনশন ফান্ড
এই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় Government Pension Fund Global। বর্তমানে এর সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার— যা অনেক দেশের অর্থনীতির সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারে।
এই তহবিলের মূল লক্ষ্য ছিল দুটি—
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- তেলের অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে পরিণত করা
আজ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির একটি।
কীভাবে কাজ করে এই তহবিল?
নরওয়ের সরকার তেল ও গ্যাস বিক্রির উদ্বৃত্ত আয় সরাসরি এই তহবিলে জমা করে। পরে সেই অর্থ বিশ্বজুড়ে শেয়ার, বন্ড, রিয়েল এস্টেট ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ করা হয়।
এখন এই তহবিলের আয় মূলত বিনিয়োগ থেকেই আসে— তেল নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রায় ৬৮টি দেশে এবং হাজার হাজার কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে তাদের।
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার কৌশল
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— নরওয়ে এই তহবিলের অর্থ দেশের ভেতরে বিনিয়োগ করেনি। ফলে দেশীয় বাজারে অতিরিক্ত টাকা ঢুকে মুদ্রাস্ফীতি বাড়েনি।
সরকার বছরে নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থ তুলতে পারে না। সাধারণত তহবিলের মোট মূল্যের একটি ছোট অংশই জাতীয় বাজেটে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মূলধন অক্ষত থাকে, আর আয় দিয়ে জনসেবা চালানো সম্ভব হয়।
কেন এত সফল নরওয়ে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, নরওয়ের সাফল্যের মূল কারণ তিনটি—
- দূরদর্শী পরিকল্পনা
- কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা
- স্বচ্ছ বিনিয়োগনীতি
এই তহবিলের আয় দিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবসরভাতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়।
ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ পথ
নরওয়ে জানে— একদিন তেলের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাবে। তাই তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এই বিশাল তহবিলের সাহায্যে ভবিষ্যতেও দেশের নাগরিকদের জীবনমান বজায় থাকবে বলে আশাবাদী তারা।
তরল সোনার মোহে না ভেসে দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে— নরওয়ে তারই এক অনন্য উদাহরণ।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই