কফি কি রোগমুক্তির ঔষধ? দিনে কত কাপ খাওয়া উচিত? জানালেন নতুন গবেষণা

কফি কি রোগমুক্তির ঔষধ? কফির কথাই বললে সাধারণত শুনতে হয় তার নেতিবাচক দিকগুলো। “এত কফি খেলে ঘুম আসবে না,” “ক্যাফিন শরীরের জন্য খারাপ,”—এ ধরনের কথা প্রায়শই শোনা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক…

June 6, 2025
0 min read

কফি কি রোগমুক্তির ঔষধ?

কফির কথাই বললে সাধারণত শুনতে হয় তার নেতিবাচক দিকগুলো। “এত কফি খেলে ঘুম আসবে না,” “ক্যাফিন শরীরের জন্য খারাপ,”—এ ধরনের কথা প্রায়শই শোনা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নির্দিষ্ট পরিমাণে কফি খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়, বিশেষত মধ্যবয়স্ক মহিলাদের জন্য। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ কফি শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সারা মাহদভির নেতৃত্বে করা এই গবেষণায় গত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার মহিলার স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা গেছে, ক্যাফিনযুক্ত কফি খাওয়া মহিলাদের মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, মানসিক শক্তি বাড়ে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ ২ ডায়াবিটিস, ক্যানসার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, যারা নিয়মিত ক্যাফিনযুক্ত কফি পান করেছেন, তাঁদের স্বাস্থ্য বয়সের সঙ্গে আরও উন্নত হয়েছে।

গবেষণায় চা বা ক্যাফিনহীন কফির তুলনায় ক্যাফিনযুক্ত কফির সাফল্যের হার বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে কোলা বা সোডাজাতীয় পানীয়ের প্রতিক্রিয়া উল্টো, যাদের উপর নির্ভরশীল মানুষদের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। তাই শুধু ক্যাফিনই নয়, কফির বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানগুলোর মিশ্রণই শরীরের জন্য উপকারী, বলছেন গবেষকরা।

এই কফিতে রয়েছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস, যা প্রদাহ কমায়, ধমনীর কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। মাহদভি বলেন, “কফি বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ডে ভরা, যা বয়স্কদের শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তবে কফির পাশাপাশি অন্য ক্যাফিনযুক্ত পানীয় যেমন কোলা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।”

১৯৮৬ সালে শুরু হওয়া এই গবেষণায় ২০১৬ সালে ৩,৭০৬ জন মহিলার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ওই সময় তাদের বয়স ছিল ৪৫ থেকে ৬০ বছর। তাঁরা গড়ে প্রতিদিন ৩১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন গ্রহণ করতেন, যা প্রায় তিনটি ছোট কাপ কফি বা দেড় কাপ বড় কাপ কফির সমান। এই ক্যাফিনের ৮০ শতাংশই তারা কফি থেকে পেয়েছেন।

তবে কফি স্বাস্থ্যকর হলেও এর সীমাবদ্ধতা আছে। দৈনিক দুই থেকে চার কাপ কফি নিরাপদ বলে মনে করা হলেও তার বেশি খাওয়া অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষত যারা ক্যাফিন সহ্য করতে পারেন না বা অন্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত কফি পান করা ঠিক নয়। এছাড়া কফি বয়স্কদের শরীরের সব ধরনের সমস্যা দূর করতে পারে না।

মোটকথা, কফি শুধু পানীয় নয়, এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পানীয়, যা সঠিক পরিমাণে খেলে শরীরের জন্য একাধিকভাবে উপকারী। তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি, যাতে স্বাস্থ্যকর উপকারিতা নিশ্চিত হয়।

সুতরাং, আপনার যদি কফির প্রতি ভালোলাগা থাকে, তবে মেজাজে করে দিনে ২ থেকে ৪ কাপ পর্যন্ত কফি নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারেন, আর সেই সঙ্গে উপকার পাবেন শরীর ও মনের।

বর্ষার আগেই বাইরে রাখা আসবাব ভালো রাখার ৫ সহজ উপায়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *