নেপালের বুড়ি গণ্ডকীতে হড়পা বান, ভেসে গেল বাড়ি ও ঝুলন্ত সেতু, নিখোঁজ অন্তত ৪

নেপালের বুড়ি গণ্ডকীতে হড়পা বান! নেপালে ফের হড়পা বানের জেরে বিপর্যয়। রবিবার ভোরে গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ জলস্ফীতি দেখা দেয়। প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায় একাধিক বাড়ি…

October 11, 2026
1 min read

নেপালের বুড়ি গণ্ডকীতে হড়পা বান!

নেপালে ফের হড়পা বানের জেরে বিপর্যয়। রবিবার ভোরে গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ জলস্ফীতি দেখা দেয়। প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায় একাধিক বাড়ি ও দু’টি ঝুলন্ত সেতু। বিপদ বুঝে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। তবে এখনও পর্যন্ত চার জনের খোঁজ মেলেনি।

‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোরে বুড়ি গণ্ডকী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যায়। চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রামকুমার গুরুং জানিয়েছেন, সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ভেসে গিয়েছে দু’টি ঝুলন্ত সেতুও। এর ফলে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

রামকুমারের কথায়, ভোরে আচমকাই বন্যা চলে আসে। জলের তোড়ের শব্দ শুনে বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ছিল যে, অনেকে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করার সুযোগ পাননি।

বিকট শব্দে ঘুম ভাঙল বাসিন্দাদের

স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ নদীর দিক থেকে বিকট গর্জনের শব্দ শুনতে পান বাসিন্দারা। অন্ধকারের মধ্যে ঠিক কী ঘটছে, তা বুঝতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান অনেকে। এলাকার হোটেলগুলিতে থাকা পর্যটকেরাও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

লোকপা এলাকার বাসিন্দা শেরাপ গুরুং জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা শুধু বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট না হলেও বাড়িতে থাকা নিরাপদ নয় বুঝতে পেরে সকলে বেরিয়ে যান। পরে জানা যায়, চার জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে গ্রামবাসীরা তল্লাশি শুরু করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান মেলেনি।

উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার, সতর্কতা জারি

গোর্খার মুখ্য জেলা আধিকারিক ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে সিউরিবাসের উপরের দিকে ভূমিধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ, ত্রাণ বিতরণ এবং বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, রবিবার সকালেও নদীর জলস্তর ওঠানামা করছিল। কখনও কখনও জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল বলে খবর। ফলে নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হড়পা বানের জেরে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভেসে গিয়েছিল বাড়িঘর, সেতু, রাস্তাঘাট এবং গাড়ি। ক্ষতির মুখে পড়েছিল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। সেই ঘটনার পর ফের বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বানের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, ভূমিধসের ফলে নদীতে অস্থায়ী জলাশয় তৈরি হয়েছিল এবং তার বাঁধ ভেঙে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা এখনও নিশ্চিত হয়নি। গোর্খা-সহ আশপাশের কয়েকটি জেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *